পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 আশুতোষ-স্মৃতিকথা স্কুল-কলেজগুলি একেবারে ভাসিয়া যাইত। আশুবাবু এই দেশব্যাপী প্লাবনের গতিরোধ করিয়াছিলেন, সরকার বাহাদুর ইহা ভালরূপেই জানিতেন। যদি “ফেল” ছেলেদের সংখ্যা বাড়িয়া যায়, তবে সেই ভগ্নীমনোরথ ছাত্রবৃন্দের মধ্যে গুপ্তহত্যাকারী ষড়যন্ত্রীদের দল প্রসারিতা লাভ করিবে,- নিরাশ ছেলেদের মধ্যে দস্তা, রাষ্ট্রনৈতিক বিপ্লব ও নানারূপ ভ্ৰান্ত, বিপজ্জনক মতবাদ পুষ্টিলাভ করিবে। যে কৈশোর ও তরুণ-যৌবন উচ্চ আদর্শের জন্য প্ৰাণ দিতে ভয় করে না, উদভ্ৰান্ত হইলে সেই তরুণেরা কত কি অনিষ্টকর পথে প্ৰধাবিত হইতে পারে ! এই বয়ঃসন্ধিকাল বড় বিষম ; ইহা সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করিতে না পারিলে জাতীয় জীবন লক্ষ্যভ্ৰষ্ট হইবে । এই সময়টা যদি তাহারা অধ্যয়নে নিরত থাকে, তবে বিপথে যাইবার অবকাশ পাইবে না। এই শুভ উদ্দেশ্য-প্ৰণোদিত হইয়া আশুতোষ শিক্ষার পথ সুগম করিয়াছিলেন। তিনি কর্তৃপক্ষের শত্রু ছিলেন না, অনেক তথাকথিত সুহৃদ হইতে তিনি সরকার বাহাদুরের বেশী বন্ধু ছিলেন। কর্তৃপক্ষ ইহা সম্যক জানিতেন । তথাপি তেঁাহাকে কেন সাময়িকভাবে তাহদের বিরোধিতা সহ্যু করিতে হইয়াছিল, তাহার কারণ পূর্বেই আভাসে বলিয়াছি। রাজ্যশাসন-তন্ত্র পরিচালন-কালে সরকার বাহাদুরের নানা দিক দেখিতে হয়। ছেলেরা যাহাতে বিদেশী শাসন সহজে মানিয়া লয়, সেইরূপ শিক্ষাই শিক্ষার সর্বপ্ৰধান ভিত্তি বলিয়া - কর্তৃপক্ষের স্থির করা স্বাভাবিক। ইহারাই তো ভবিষ্যতের বাঙ্গালী জাতি, ইহারা যদি স্ব স্ব প্ৰধান হয়, কর্তৃপক্ষের বিরোধী হয়, তবে তাহাদিগকে প্রশ্ৰয় দেওয়া উচিত হইবে না । আশুবাবু সরকারের হিতকামী হইলেও তিনি ছাত্ৰ-মণ্ডলীর মধ্যে পরোক্ষভাবে যে স্বাধীন চিন্তা-বিকাশের সুযোগ দিতেন, এবং যাহা তাহাব স্বকীয় কাৰ্য্যাবলীতে সর্বদা স্পষ্ট হইয়া উঠিত,-সেই জিনিসটা কর্তৃপক্ষাকে উৎসাহিত করিতে পারিত না। র্তাহারা যদি বুঝিতেন, তঁহাদের হিতকামী আশুবাবু সর্বদা তাহদের অনুগামী হইয়া কাজ করিবেন, তবে তঁাহারা শিক্ষার ভার তঁহার হাতে দিয়া নিশ্চিন্ত হইতে পারিতেন । * লাটু লিটনের যে চিঠি লইয়া এতটা বাদানুবাদ হইয়াছে, তাহাতে এই উদ্দেশ্য ছিল, আশুবাবুকে রাজকীয় শ্বেতছত্রের নীচে ভিড়াইয়া আনা যায়