পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবন-মধ্যাহ্নে See বা হাত-তালি পাইবার জন্য কোন চেষ্টাই করেন নাই। যাহা নিজে ভাল বোধ । করিয়াছেন, কাহারও মতামত গ্ৰাহ না করিয়া তিনি তাহাই করিয়াছেন,- এ অবস্থায় সাধারণ লোকের মত পরের নিন্দা-প্ৰশংসা *"*" তাহার জীয়ন-মরণ কাঠি হয় নাই। অথচ আমি তঁহাকে যে ২৪ বৎসর দেখিয়াছি,-এই দীর্ঘ কালের পরিচয়ে তঁহার উপর আমার অন্যরূপ ধারণাই হইয়াছে। কেহ তঁাহার কাছে তাহার গুণ-গরিমা বৰ্ণনা করিবার সাহসই পাইত না। এমন শিক্ষিত লোক বঙ্গদেশে বিরল, র্যাহারা আশুবাবুর সহিত দেখা-সাক্ষাৎ করিবার সুযোগ খোজেন নাই। বহু লোকই তঁাহার অনুগ্ৰহ-প্ৰাৰ্থী হইয়াছেন, ইহাদের মধ্যে কয়েকজন ভঁাহার বিশ্বস্ত ও গ্ৰীতিভাজন হইয়াছিলেন, অন্য সকলের সে সৌভাগ্য হয় নাই। এই দুর্ভাগার দল তঁাহারা তোষামোদ-প্ৰিয়তার কুৎসা প্রচার করিয়াছেন। আমি একজন অধ্যাপককে জানি, তিনি আশুবাবুর সহিত দেখা করিয়া স্বীয় বাটীতে ফিরিতেছিলেন ; তাহার এক বন্ধু ট্রামে তঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন-“দক্ষিণ মুল্লুক হইতে ফিরিতেছেন, আশুবাবুর বাটীতে গিয়াছিলেন না-কি ?” এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি উষ্ণ হইয়া বলিলেন-“আমাকে কি আপনি আশুতোষের খোেশামুদে ঠাওরাইয়াছেন ? আমি তঁাহার বাড়ীতে কেন যাইব ?” বন্ধু বলিলেন—“র্তাহার বাড়ীতে গেলেই কি তাহার খোশামুদে হইতে হয় ?” তিনি বলিলেন-“না মহাশয়, আমি কোন খোশামোদ-প্ৰিয় বড়লোকের বাড়ীতে যাই না ।” তারপর বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেল, তিনি র্তাহার কোন গুরুতর স্বার্থের প্রয়োজন সিদ্ধ করিয়া সেই ট্রামেই আশুবাবুর বাড়ী হইতে ফিরিতেছিলেন। অধ্যাপকটি এখন পরলোকগীত, কিন্তু এই ঘটনাটি উদ্ভটসাগর পূর্ণচন্দ্ৰ দে মহাশয় অবগত আছেন। তোষামোদ-প্রিয়তা দূরের কথা, তাহার দোষ ধরিয়া, গালাগালি করিয়া লোককে তঁহার নিকট হইতে কাজ আদায় করিতে আমি দেখিয়াছি। ছাত্রদের মধ্যে যাহার কোন আবেদন-নিবেদন লইয়া গিয়াছে, তাহাদের কাকুতি-মিনতি অনেক সময়েই তিনি শোনেন নাই। কিন্তু কোন কোন তেজস্বী ছাত্র তাহার সঙ্গে বিরুদ্ধ তর্কে বহুক্ষণ ধরিয়া স্বীয় মনস্বিতা দেখাইয়া সফলতা লাভ করিয়াছে, তাহা আমি প্ৰত্যক্ষ করিয়াছি। Y8