পাতা:ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ইংরেজ ডাকাত।

৪৩


বৎসর বৎসর উহা মেরামতও করিয়া থাকেন। এই বাঁধের দ্বারা আমাদিগের কি উপকার হইয়াছে, তাহা আমরাই জানি। উক্ত বাঁধের নিমিত্ত তাঁহারা এ প্রদেশে আগমন করিয়াছেন, সাহেবদিগের মুখে এই কথা শুনিয়া আমাদিগের মনে তাঁহাদিগের প্রতি অতিশয় দয়ার উদ্রেক হইল। আমরা। তাহাদিগকে সঙ্গে করিয়া আমাদিগের এই বাড়ীতে আনয়ন করিলাম, এবং আমাদিগের বাঙ্গালীর যে খাদ্য (লুচি, তরকারি প্রভৃতি) তাহাদিগকে খাইতে দিলাম। আহারাদি করিয়া সমস্ত রাত্রিই তাহারা আমাদিগের বাড়ীতে শুইয়াছিলেন।

 “উক্ত সাহেবদ্বয়ের মধ্যে একজনকে অতিশয় বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ লোক বলিয়া, আমাদিগের বোধ হয়। কথার প্রসঙ্গে যখন যে কথা উপস্থিত হয়, তাহাতেই বুঝিতে পারি যে, উঁহার সর্ব্বদিকে বিশেষ দৃষ্টি আছে। সাহিত্যের কথা পাড়িয়া বুঝিলাম, তিনি একজন সাহিত্য-সেবী। সমর-সংক্রান্ত কথায় জানিতে পারিলাম, তিনি একজন সৈনিকপুরুষ; নিজে অনেক রণক্ষেত্রে উপস্থিত থাকিয়া অনেক যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। বিজ্ঞানে উহার বেশ দখল আছে, রাজনৈতিক সমস্ত কার্য্যই উনি বিশেষরূপে বুঝিতে পারেন। ডাক্তারি বিদ্যাতেও কতক পারমাণে অভিজ্ঞ। এক কথায় সর্ব্বগুণে বিভূষিত এরূপ একটী লোক পাওয়া নিতান্ত সহজ নহে। তাঁহাদিগের সহিত একত্র উপবেশন করিয়া নানাকথা-প্রসঙ্গে প্রায় রাত্রি দুইটা পর্য্যন্ত আমরা বসিয়াছিলাম। অদ্য প্রাতঃকালে পাঁচটার সময় তাঁহারা এইস্থান পরিত্যাগ পূর্ব্বক, দামোদরের ধারে ধারে বাঁধ সকল দেখিতে দেখিতে চণ্ডীপুর-অভিমুখে গমন করিয়াছেন।”