পাতা:ইন্দ্রচন্দ্র.pdf/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একবিংশ পরিচ্ছেদ । $象凯 স্বৰ্য্যদেব রক্তিমাবর্ণ হইয়াছিলেন, দেখিতে দেখিতে অন্ধকার হইয়। আসিল, ক্রমে সৰ্ব্ব গ্রাস হইল ; আর কোলের মানুষ চেনা যায় না । “ও কালির মা তুই কোথা গেলি গে৷” বলিয়া একজন আর জনকে ডাকিলেন ; উত্তরে ঘাটিয় উড়ে ব্ৰাহ্মণ করকেট আয়রণের ঘরের ভিতর হইতে উত্তর দিল “আসে। গো এয়াড়ে আসে” কালির মার অনুসন্ধান কারিণী “আসে গে।” স্বর অনুসরণ করিয়া আর একজন ঘাটীয়ার ধরে চুকিয়া পড়িল। অনেকক্ষণের পর মুক্তি হইল, সঙ্গে সঙ্গে স্নানের হুড়াহুড়ি পড়িয়া গেল। অগ্ৰে স্নান করিবার জন্য সকলেই ব্যস্ত ; বিশেষ মাড়োয়ারির মেয়েরা, যেমন নামিবার জন্য, তেমনি উঠিবার জন্য। মুক্তির স্নান শেষ হইল ; সকলেই একে একে উঠিতে লাগিলেন । এই সঙ্গে এক চতুর্দশ বর্ষীয় বিধবা যুবতী অদ্ধ বয়সী আর বিধবার সঙ্গে এক হাত ঘোমটা দিয়া তীরে উঠিলেন। এখানেও কাঙ্গালীর অপ্রতুল নাই ; চাহিয়া কিছু না পাইলে কাপড় ধরিয়া টানাটানি করিতেছে । বস্তুত তাহাই ঠিক ; এক পঞ্চম বর্ষীয় বালক আদ্র বসন চতুর্দশ বর্ষীয়া বিধবার পরিধেয় বস্ত্র ধরিয়া বলিল, “একটা পয়সা দাও ন ম ।’’ বালকের কণ্ঠস্বর বিধবার কর্ণে যেন কেমন কেমন লাগিল । বিধবা একটু ঘোমটা তুলিয়া বালকের মুখের দিকে চাহিয়৷ কছিলেন ;-প্রাণটা কেমন করিয়া উঠিল। বিধবা পশ্চাদ্বৰ্ত্তিনী অৰ্দ্ধ বয়সীর দিকে মুখ ফিরাইয়। বলিলেন “দেখ মা, ছেলেটার মুখ খানি দেখ’ অৰ্দ্ধবয়সী মস্তকের চুল ঝাড়িতে ছিলেন, বধূর স্বর শুনিয়। বালকের মুখের দিকে চাহিয়া দীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করিলেন ।