পাতা:ইন্দ্রচন্দ্র.pdf/৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একাদশ পরিচ্ছেদ । 속 ছায়াময়ী উত্তর করিল “তেল নাই ৷’’ রাজকুমারের কর্ণে ছায়াময়ীর কণ্ঠস্বর একটু ভার ভার বলিয়া বোধ হইল । অন্ধকারে চক্ষে হাত দিয়া দেখিল ছায়াময়ী কাদিতেছে । রাজকুমারের ধৈর্য্যচু্যত হইল, আর থাকিতে পারিল না ; চিৎকার করিয়া কঁাদিয়া উঠিল । স্বামীর রোদন করিতেছেন দেখিয়া ছায়ামীও আর স্থির থাকিতে পারিল না ; বাম হস্তে রাজকুমারের গলদেশ বেষ্টন করিয়া দক্ষিণ হস্ত দ্বারা মুখ চাপিয়া ধরিল । বলিল, “চুপ কর চুপ কর।” ছায়াময়ীর প্রবোধ বাক্যে রাজকুমার একটু শাস্ত হইল । জিজ্ঞাসা করিল, “এ কয়দিন কি করে সংসার চালালে ?” ছায়াময়ী দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়৷ বলিল, “যিনি জীব দিয়েছেন তিনিই আহার দিবেন। যার কেউ নাই তার মা দুর্গ আছেন, বাবা তারকনাথ তাছেন।” রাজকুমার বলিল “নিশ্চয়ই কোথার ধার করেচে। ” রাজকুমারের কথা শুনিয়া এই দুঃখের সময়েও ছায়াময়ীর হাসি আসিল । বলিল “হু ; এপড়ার লোকর ধায় দেবার পাত্রই বটে। খরচের জন্তে তুমি আমার কাছে যা দিয়ে ছিলে তাই থেকে কিছু র্বাচিয়ে রেখে ছিলেম বলে কয়দিন চললে । আজ আর কিছুই ছিল না, কাজেই উননে হাড়ি চড়ে নাই ।” রাজকুমার ব্যস্ত হইয়া উঠিল । বলিল “তবে কি আজ তোমাদের খাওয়া নাই ।” ছায়াময়ী উত্তর দিল “ও বাড়ী ড় মাসিমা নরেন, সুরেনকে চারটা ভাত দিয়েছিল তারা তাই খেয়েচে, আর মা—ঠাকুরঝিকে কি থাবার পাটিয়ে দিয়েছিলো, সে তাই খেয়েচে ।”