পাতা:উপবাস - যদুনাথ মজুমদার.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
উপবাস।

দেন। না দিলে, তাহার মস্তিষ্কের বিকার হয়। অতিরিক্ত আহার করিলে, পেট ভরা থাকিলে, মাথা খেলে না। বড় লোকের ছেলের ভুড়ি লইয়া বিব্রত, সুতরাং অনেকেরই মুড়ী (মাথা) আদৌ খেলে না। আহার কম করিলে, অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেরূপ সবল হয়, মস্তিষ্কও তদ্রূপ সবল হয়। ভাই! বিশ্বাস না কর, নিজেই পরীক্ষা করিয়া দেখ। একেবারেই ত কম খাইতে বলা হইতেছে না, তাহাতেও ত শীরর কৃশ ও দুর্ব্বল হইবে, ফলে সাধারণতঃ একটু কম কম খাওয়াই ভাল। শাস্ত্র তাহাকেই মিতাহার বলিয়াছেন। গীতায় উক্ত হইয়াছে—“নাত্যশ্নতস্তু যোগেহস্তি নচৈকান্তমনশ্নতঃ।” অর্থাৎ অত্যাহার ও অত্যল্পাহার, উভয়ই স্বাস্থ্যের বিরোধী; সুতরাং যোগের হানিজনক। দেহের প্রধান যন্ত্রই মাথা। অত্যাহারে সেই মাথারই মাথা-খাওয়া, হয়! স্বাস্থ্যই ধর্ম্মসাধনের মূল; “শরীরমাদ্যং খলু ধর্ম্মসাধনম্।” রুগ্ন ব্যক্তি দ্বারা জগতের কোন কার্য্যই হয় না। ধর্ম্মই বল, আর কর্ম্মই বল, আরোগ্য ভিন্ন সব অসম্ভব। শাস্ত্র বলেন—“ধর্ম্মার্থকামমোক্ষাণামারোগ্যং মূলমুত্তমম্‌” উপবাসই সেই আরোগ্য বা স্বাস্থ্যের মূল; স্বাস্থ্যই চতুর্ব্বৰ্গসাধনের উত্তম মূল। অতএব যথাসম্ভব উপবাস অভ্যাস অবশ্য কর্ত্তব্য।

 আবার বলি, উপবাসে ভয় নাই। আমার তিন ক্রোশ পথ হাঁটিতে হইবে, উপবাস করিয়া কি করিয়া পারিব? কিন্তু কোন ভয় নাই; দেখিবে, ভরা পেটের চেয়ে খালি পেটে হাঁটা যায় বেশী;—ব্যায়াম হয়, ক্ষুধা বাড়ে। পরে