পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


GRWS : ' , Ο Σ সহিত যুদ্ধ আরম্ভ করিয়া পরে মোগলদিগের প্রতি মনোনিবেশ করিলেন। মোগলেরা তঁহাদের উভয়েরই প্ৰবল শত্ৰু, এবং তাহারা তঁহাদিগকে অধিকারচু্যত করিবার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করিতেছিল। কাজেই তাহারা পরম্পরের মধ্যে বিবাদ নিবৃত্ত করিয়া সেই সাধারণ শক্রকে বিতাড়িত করিবার জন্য সচেষ্ট হইলেন । মোগলেরা তাহদের বিক্রমপুর রাজ্যকে আপনাদের দরকার সোনারগায়ের অন্তর্ভুক্ত বলিয়া প্ৰকাশ করিতে লাগিল, ও তাহার কোন কোন অংশে আপনাদের শাসন প্রচলনের ও চেষ্টা করে। তন্মধ্যে সনদ্বীপই প্ৰধান। বঙ্গোপসাগরের হৃদয় হইতে উখিত কৃষি, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যপূর্ণ সনদ্বীপ বাঙ্গলার ইতিহাসে চিরবিখ্যাত। এই সনদ্বীপের জন্য বঙ্গোপসাগরের নীল সলিল যে কত বার রুধিরধারায় রঞ্জিত হইয়াছে, তাহার ইয়াত্তা করা যায় না। মোগল, পাঠান, মগ, ফিরিঙ্গী ও বাঙ্গালীর কত মুণ্ড যে গড়াগড়ি গিয়াছে, তাহারই বা সংখ্যা কে করিবে ? কত গোলাগুলি যে ইহার কোমল বক্ষকে বিদীর্ণ করিয়াছে তাহাই বা কে ধলিতে পারে ? সনদ্বীপ কেদার রায়েরই রাজ্য দু ভক্ত ছিল, কিন্তু মোগলেরা তাহা অধিকার করিয়া আপনাদের সাম্রাজ্যভুক্ত করিবার চেষ্টা করে । কেদার রায় তাহার পুনরুদ্ধারের জন্য সচেষ্ট হন । তিনি এই গুরুতর কাৰ্য্যের জন্য কার্ভালোকে নিযুক্ত করিলেন। ১৬০২ খৃঃ অব্দে কার্ভালো অসীম বীরত্ব প্ৰকাশ করিয়া মোগলদিগের হস্ত হইতে সনদ্বীপ অধিকার করিয়া লন । তিনি সনদ্বীপেই অবস্থিতি করিতেছিলেন । মোগলের চারিদিকে বেষ্টন করিয়া সনদ্বীপে কার্ভালোকে অবরোধ করিয়া ফেলে। কার্ভালো অবরুদ্ধ হইবার পূৰ্ব্বে চট্টগ্রামের পটুগীজ সেনাপতি ইমানুয়েল মাটুিসের নিকট সাহায্য চাহিয়া পঠাইয়া ছিলেন। মাটুিস চারি শত সেনা লইয়া সনদ্বীপে উপস্থিত হন। মোগলগণও তাহাকে বাধা প্ৰদানের জন্য ঘোরতর যুদ্ধের আয়োজন করে। ফিরিঙ্গী ও মোগলের জলযুদ্ধে বঙ্গোপসাগর আন্দোলিত হইয়া উঠিল। মোগলের সাহসসহকারে যুদ্ধ করিল বটে, কিন্তু ফিরিঙ্গীর গোলার নিকট তাহাদিগকে পরাজয় স্বীকার করিতে হইল। মোগলেরা অবরোধ পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হয়।