পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রায় । እ ፃ তাহার নির্বাণের জন্য বিরাট আয়োজনে প্ৰবৃত্ত হন। তঁহাকে সেলিম সা ও কেদার রায় উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সজ্জা করিতে হয়। কিন্তু সুচতুর মানসিংহ একেবারে উভয়কে আক্রমণ করা যুক্তিসঙ্গত মনে না করিয়া প্ৰথমে সেলিম সার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্ৰা করিবেন বলিয়া স্থির করেন। আরাকানীরা জলযুদ্ধ ও স্থলযুদ্ধ উভয় সংগ্রামেই পারদর্শী ছিল। কাজেই মানসিংহকে তাহারই আয়োজন করিতে হয়। তৎপূর্বে আরাকানরাজ ও কেদাররায়ের সন্ধি । ভঙ্গ হওয়ায়, মানসিংহের পক্ষে মহাসুযোগ উপস্থিত হইল। মানসিংহ এতদিন যাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিলেন, সেই মহাসুযোগ সহসা উপস্থিত হওয়ায়, তিনি বিলম্ব না করিয়া ১৬০৩ খৃঃ অব্দের প্রথমেই আরাকানরাজ সেলিম সার সৈন্যদিগকে আক্রমণ করিলেন । জলে স্থলে আবার আগুন জ্বলিয়া উঠিল । যদি ও আরাকানীরা ও তাহদের সহিত মিলিতত্ব ফিরিঙ্গীরা মোগলদিগকে বাধা দিবার জন্য প্ৰাণপণে চেষ্টা করিয়াছিল, কিন্তু মানসিংহের শিক্ষিত সৈন্যগণের নিকট তাহাদিগকে পরাজয় স্বীকার করিতে হয় । মানসিংহ তাহাদিগকে পূৰ্ব্ববঙ্গ হইতে বিতাড়িত করিয়া দেন । মগরাজকে দমন করিয়া মানসিংহ পুনর্দার কেদার রায়ের সহিত যুদ্ধ করিবার জন্য ইচ্ছক হন । কিন্তু তাহার অনেক রণতরী ও সৈন্য মাগদিগের সহিত যুদ্ধে বিনষ্ট হওয়ায়, তিনি সে বৎসরে উক্ত সংকল্প ত্যাগ করেন। পর বৎসর অর্থাৎ ১৬0৪ খৃঃ অব্দে মানসিংহ নবী সজায় সজ্জিত হইয়া আবার কেদার রায়ের সহিত যুদ্ধার্থে অগ্রসর হন। কেদার রায় ও পূর্ব হইতে তাহা অবগত হইয়াছিলেন । তিনি ও বিপুল মোগলবাহিনী ও রণতরীর সহিত প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করিবার জন্য প্ৰাণপণে আয়োজন করিতে লাগিলেন। এই সময়ে তিনি পাঁচ শত রণতরী সংগ্ৰহ করেন । শিক্ষিত বাঙ্গালী ও ফিরিঙ্গী গোলন্দাজ সেনা এবং সেনাপতিগণ সেই সমস্ত রণতরীতে দুৰ্জয় কামান স্থাপন। করিয়া পূর্ববঙ্গের সমস্ত নদনদী ও সমুদ্র আন্দোলিত করিয়া তুলিতে লাগিল। তদ্ভিন্ন কেদার রায় অনেক পদাতি ও অশ্বারোহী সেনা সমবেত করিয়াছিলেন। মানসিংহ প্ৰথমতঃ মোগল সেনাপতি কিলমককে কেদার রায়ের বিরুদ্ধে অগ্রসর