পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/২৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্যার উইলিয়ম জোন্সের সংস্কৃত শিক্ষা। ভারতে ইংরাজ অধিকারের প্রথম আৰ্দ্ধশতাব্দীতে যে সকল মনস্বী রাজপুরুষ অসাধারণ অধ্যাবসায়সহকারে সংস্কৃত ভাষায় গভীর জ্ঞানলাভ করিয়া নিজ নিজ পাণ্ডিত্য প্রদর্শনে প্ৰাচ্য প্রতীচ্য উভয় দেশীয় পণ্ডিত মণ্ডলীর বিস্ময় ও প্ৰশংসার স্থল হইয়াছিলেন, স্যার উইলিয়ম জোন্স। তঁহাদেরই অন্যতম। নিজ জন্মভূমি হইতে শত সহস্ৰ ক্রোশ দূরে, অপরিজ্ঞাত দেশে ভিন্ন ভাষা-ভাষী অচেনা লোকের মধ্যে, অসংখ্য প্ৰতিফ ল ঘটনার সহিত যুদ্ধ করিয়া, কত কষ্টে, কত অসুবিধায় তিনি সংস্কৃত ভাষায় সম্যক পারদর্শিতা লাভ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন, এবং তৎকালে এতদ্দেশীয় জনগণই বা ধৰ্ম্ম শাস্ত্রের অনুশাসন বাক্য ও সমাজশাসনের প্রতি কতটুকু সম্মান প্রদর্শন করিতেন, তাহা দেখাইবার জন্যই বৰ্ত্তমান প্ৰবন্ধের অবতারণা। স্তর উইলিয়ম জোন্স ১৭৮৩ খৃষ্টাব্দে তদানীন্তন কলিকাতা সুগ্ৰীম কোর্টের বিচারপতি রূপে ভারতে পদাৰ্পণ করেন। ভূত্যবর্গের সহিত কথোপকথন করিবার জন্যই তিনি প্ৰথমে একটু হিন্দু স্থানী শিক্ষা করেন। এদেশে সংস্কৃতের আদর দেখিয়া স্যার উইলিয়ম সংস্কৃত শিক্ষার অভিপ্ৰায়ে একজন অধ্যাপকের অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন । কিন্তু শাস্ত্ৰনিষিদ্ধ বলিয়া কোন ব্ৰাহ্মণই স্লেচ্ছকে দেবভাষা শিক্ষা দিতে সাহসী ছিলেন না । তদানীন্তন কৃষ্ণনগরাধিপতি মহারাজ শিবচন্দ্ৰ স্তর উইলিয়মের বন্ধু ছিলেন, তিনিও বন্ধুর জন্য অধ্যাপক সংগ্রহের চেষ্টা পাইতে লাগিলেন, কিন্তু মহারাজের চেষ্টা বা স্তর উইলিয়মের বিজ্ঞাপিত মোটা বেতনেও কোন ফল হইল না। মোটা বেতনের প্রলোভনে হু একটি পণ্ডিত গোপনে স্তর উইলিয়মের রহিত কথাবার্তা চালাখুঁজছিলেন-ডাঁহাদের প্রতিবেশিগণ ইহা অবগত হইয়া সামাজিক শালুনের