পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাফেজ। ] ૭૧ বহু দেশ বিদেশে খ্যাতিলাভ করিয়াছিল, এবং সেগুলি তাহার মৃত্যুর পরে “দিবান” নামে প্রচারিত হয়। দিবানের মধ্যে কবিতাগুলি বৰ্ণানুক্রমিক ভাবে সজ্জিত ; সুতরাং কোন সময়ে কোনটি লেখা হইয়াছিল, তাহার সময় নির্দেশ করিবার সুবিধা নাই। এই রত্নমালা প্ৰায়ই সামান্য চিন্তাসুত্ৰে অব্যবস্থিত ভাবে সম্বদ্ধ। কিন্তু তবুও মনোযোগসহকারে পাঠ করিলে বুঝা Iায় যে, সৰ্ব্বত্রই সুফি ধৰ্ম্মের মৰ্ম্মসুত্ৰ অন্তনিহিত ভাবে এই কবিতাগুলির অন্তরালে প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে। আপাতদৃষ্টিতে সমালোচকের চক্ষে এই কবিতাদমূহের মধ্যে উচ্ছঙ্খল জীবনের যাহাই পরিচয় থাকুক না কেন, চিন্তাশীল গুণগ্ৰাহী পাঠাক চিরদিনই এই কাব্যকুসুমে নন্দন সুরভি অনুভব করিবেন। হাফেজের গজলের প্রধান বিশেষত্ব তাহার স্বাভানুবৰ্ত্তিতা । পার্থী গাহে, কারণ সে না গাহিয়া পারে না ; কবি গায়, কারণ গান করাই কবির ধৰ্ম্ম। পাখী কখন কি গাহে, বোধ হয় সে নিজে ও জানে না ; প্ৰকৃত কবিও নিজের ভাষার অর্থ, ভাবের মৰ্ম্ম সম্পূর্ণ নিজে অবগত নহে। হাফেজের যাহা স্বাভাবিক উচ্ছাস হইত, তাহাই মধুর ভাষায় কবিতাকারে প্রচারিত হইত। বিবেচনা করিয়া, দিন কাল বুঝিয়া, প্ৰতিবেশীর স্পাহানুযায়ী কবিতা লেখা তাহার ধৰ্ম্ম ছিল না। হাফেজের দুর্ভাগ্য বলিতে হইবে যে, তিনি যে যুগে প্রাড় ভূত হন, সে যুগে গৈরিক নিস্রাবের মত অস্তরের স্বাভিব্যক্তি চলিত না। তখন প্ৰতোক লেখকের প্রত্যেক চিন্তা সাম্প্রদায়িকতার আবরণ লইয়া লোকসমাজে দেখা দিত এবং কবিসুলভ। উদামভাব বা সৌন্দৰ্য্যালিপ্তসার পুর্ণ-বিকাশ সাধারণের নিকট অজ্ঞাত ও তীব্রভাবে সমালোচিত হইত। হাফেজের দিবানের পত্রে পত্রে যে ঈশ্বরোমুখী আত্মার উদ্ভাস্তি প্ৰেম উগদীত হইত, তাহার তুলনা নাই। তাহার গীতি কবিতা গুলি এতই সুন্দর যে সেই জন্য তৎসাময়িক ব্যক্তি গণ তাহাকে “শর্করা ভাটী” আখ্যা দিয়াছিলেন । হাফেজের কবিতার বিষয়সমূহ প্ৰায়ই পুষ্প, মদ্য, প্ৰেম, চুম্বন ও সুন্দরী রমণী প্রভৃতি। এই জন্য সমস্ত সভ্যজগতে তাহার কবিতার বাস্তবিক প্রকৃতি নিৰ্দ্ধারণ সম্বন্ধে বহু বাদানুবাদ চলিয়াছে। কেহ বলেন, কবির চরিত্র যেরূপ