পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রায় । তিন শত বৎসর অতীত হইল, বাঙ্গালার শুষ্ঠামল প্ৰান্তরে একদিন স্বাধীনতা লক্ষ্মী প্ৰতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন । তাহার তর্পণের জন্য বাঙ্গালী সেদিন আপনার হৃদয় হইতে শোণিতধারা মোক্ষণ করিয়া দেয়। দেবীর আশীৰ্ব্বাদ লাভ করিয়া তাহার বাহু দুৰ্জয় শক্তি লাভ করে, তাই সে বাহুর অসিচালনায় মোগলপাঠান, মগফিরিঙ্গী সঙ্গাসিত হইয়া দূরে পলাইয়া যায়। যে দিন বাঙ্গালীর গৌরব-সুৰ্য্য সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা বঙ্গভূমিকে আলোকিত করিয়াছিল, সে দিনের কথা স্মরণ করিতে কাহির হৃদয় না পুলকে অধীর হইয়া উঠে ? সেদিনের কথা মনে হইলে কঙ্কালসার আমাদেরও দেহে রোমহর্ষ উপস্থিত হয়। যদি কেহ কল্পনার চক্ষে ও সে দিনের চিত্ৰ দেখিতে পান, তিনিও, যে জীবনে। ধন্য হইবেন, তাহাতে বিন্দুমাত্ৰ সন্দেহ নাই। বাঙ্গালীর সেই গৌরবময় দিনের পুণ্য-কাহিনী চিরদিন যে বাঙ্গালা জাতিকে সঞ্জীবিত করিয়া রাখিবে, এরূপ আশা অনায়াসে করা যাইতে পারে । যে প্ৰকৃত বাঙ্গালী হইবে, সে কখনও সে দিনের কথা জীবনে ভুলিতে পারিবে না। বাঙ্গালীর কাব্য, বাঙ্গালীর ইতিহাস চিরদিনই সে কথা জাগাইয়া রাখিবে। বাস্তবিক খৃষ্টীয় যোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগ বাঙ্গালীর জাতীয় - জীবনের মহাগৌরবময় দিন। পূৰ্ব্ব প্রান্ত হইতে পশ্চিম প্রান্ত পৰ্যন্ত সমগ্ৰ বঙ্গভূমি সে সময়ে বাঙ্গালীর গৌরবে উদ্ভাসিত হইয়াছিল। সেই প্ৰতাপাদিত্য ও কেদার রায়, সেই রামচন্দ্র রায় ও লক্ষ্মণমাণিকা, সেই মুকুন্দরায় ও বীর হান্ধীর আপনাদিগের রণক্রীড়া দেখাইয়া যেরূপে মোগলপাঠান, মগফিরিঙ্গীকে চমকিত করিয়াছিলেন, তাহার তুলনা বাঙ্গালার ইতিহাসে আর দেখিতে পাওয়া যায় না। এই চারি ভীষণ শত্রুর সহিত অবিরাম সংগ্রামে বাঙ্গালী যেরূপ