পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


V করিম সেখ করিবে ভাবিয়া পাইল না। এই দুঃখ ও বিপদের সময় প্রতিবেশীরা সকলেই মুখে সহানুভূতি দেখাইল ; কিন্তু তাহার আবাল্য মিত্র করিম এই বিপদের সময় একবারে বুক দিয়া পড়িল। তাহদেরও অবস্থা ভাল ছিল না। তবুও এখনও তাহার পিতা বৰ্ত্তমান, এখনও তাহার তিনটী ভাই আছে। সে যথাসাধ্য বসিরাদির সাহায্য করিতে কৃতসঙ্কল্প হইল। তাহাকে সাহস দিতে লাগিল। মাথার উপর আল্লা আছেন, তিনি তিনটী প্ৰাণীকে কখনই অন্নের অভাবে মরিতে দিবেন না । যেমন করিয়া হয় সংসার চলিবে । ভয় কি ? বন্ধুর আশ্বাসবাক্যে বসিরাদি মনে বল পাইল । যথাসময়ে দুইটা গরু বিক্রয় করিয়া বসিরাদি পিতৃকাৰ্য্য শেষ করিল ! মহাজন পোদার মহাশয় ইহারই মধ্যে দুইদিন টাকার তাগাদা করিয়া গিয়াছেন। বসিরাদি তাহাকে বলিয়াছে, “পোদ্দার মহাশয়, টাকা মারা যাবে না ; তবে একটু দেৱী হবে। আমি বাপের ঋণ রাখব না, যেমন করিয়াই হউক শোধ করব।” কিন্তু কেমন করিয়া যে সে এত বড় একটী ক্রুংসার প্রতিপালন করিয়া ঋণ শোধ দিবে, তাহা সে ভাবিয়াই পাইল না। কৃষক-পল্লীতে অনেকেরই সে বৎসর অতি কষ্টে চলিল । যাহাঁদের কিছুই সঞ্চিত ছিল না, তাহারা দুই চারিটী গরু বেচিল, কেহ বা ঘাট, বাটী বন্ধক দিয়া কোন প্রকারে দিন চালাইল । বসিরাদির পাঁচটী গরু সেই বৎসরই ক্রেতার হস্তগত হইল। উপায় নাই, সপরিবারে ত আর না খাইয়া মরিতে থারে না ? সকলেই ভাবিল আগামী বৎসরে অবশ্যই কিছু ফসল হইবে। কিন্তু পরের বৎসরেও অজন্ম হইল, মাঠের শস্য মাঠেই শুকাইয়া গেল । এক বিন্দু বৃষ্টিপাত হইল না। তখন চারিদিকে হাহাকার উঠিল ;