পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিম সেখ Գ কেমন করিয়া দিনপাত হইবে ভাবিয়া কৃষকেরা মাথায় হাত দিয়া বসিল । ফতেপুরের অধিকাংশ কৃষকই মহা বিপদ গঞ্জিল। করিম ও তাহার পিতা দিনমজুরী আরম্ভ করিল। করিমের ছোট তিনটী ভাই পরের বাড়ী রাখালী করিতে গেল ! বসিরাদি কি করিবে ভাবিয়া পাইল না। করিমের দেখাদেখি সেও দিনমজুরী আরম্ভ করিল। করিম কিন্তু এই সময়ে বসিরদিকে বড়ই সাহায্য করিতে লাগিল। নিজে যাহা উপাৰ্জন করিত তাহার কিছু সে প্রতিদিন বসিরদিকে দিত। বসিরাদি প্ৰথম প্ৰথম লইতে অস্বীকার করিত ; কিন্তু শুধু তাহার উপাৰ্জনে যখন দিন চলে না, তখন বন্ধুর দান সে প্ৰত্যাখ্যান করিতে পারিল না । করিম প্ৰতিদিনই বসিরাদির বাড়ীতে কিছু না কিছু পঠাইয়া দিত; কোন দিন বা আধ সের লবণ, কোন দিন এক সের মটর, কোন দিন বা এক পোয়া তৈল সে বসিরাদির বাড়ীতে দিয়া যাইত । ইহার অধিক দেওয়া তাহার শক্তিতে কুলাইত না। করিম শুধু যে এই সকল আবশ্যক দ্রব্য দিয়াই ক্ষান্ত থাকিত তাহী নহে, মধ্যে মধ্যে সে দুই পয়সার বাতাসা কি দুই পয়সার গুড় কিনিয়া বসিরাদির স্ত্রীকে দিয়া যাইত। বসিরাদি নিষেধ করিলেও সে শুনিত না ; বলিত “বসির ভাই, বৌয়ের যাতে কোন কষ্ট না হয় তা দেখা তোমার আমার উচিত।” বসির বলিত “ভাই, এখন কি পয়সা নষ্ট করবার সময়। আর : তোমাদেরও ত অবস্থা ভাল নয়। ও দুই পয়সার জিনিষ তোমার ; বাড়ীতে দিও। আমার যে উপকার তুমি করছি তার কথা আমি চিরদিন মনে রাখব।” করিম যেন ক্রমেই বাড়াবাড়ি আরম্ভ করিল। একদিন সে