পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Yby করিম সেখ ভাবের উদয় হইয়াছিল, তাহা আমরা বলিতে পারি না। তবে করিম সেই যে নৌকা ছাড়িয়াছে, পথে আর সে কোথাও নৌকা বাধে নাই। নৌকায় যে সামান্য চিড়া ও গুড় ছিল, দুই দিন তাহাই সে খাইল। এ দুই দিন সে স্নান পৰ্যন্তও করিল না । তৃতীয় দিনে যখন সে বাড়ীর ঘাটে পৌছিল, তখন তাহাকে দেখিয়া মনে হইল, বন্ধুর মৃত্যুশোকে সেও যেন মৃতপ্রায় হইয়াছে। তাহার মলিন মুখ, অনাহারে শীর্ণ শরীর, তাতার গভীর শোকের সাক্ষ্য দিতে व्लाब् ि। করিম বাড়ীর ঘাটে নৌকা বাধিয়া ধীরে ধীরে তীরে উঠিল ; নৌকায় যে সামান্য জিনিসপত্র ছিল তাহা তীরে নামাইবার কোন চেষ্টাই সে করিল না, জিনিষগুলি নৌকার মধ্যেই পড়িয়া রহিল। সে তীরে উঠিয়া প্ৰথমে বসিরের বাড়ীর দিকে চলিল। পথে যে দুই চারি জন পরিচিত লোকের সহিত দেখা হইল, তাহারা করিমের অকস্মাৎ প্রত্যাবৰ্ত্তনের কারণ জিজ্ঞাসা করিল ; করিম তাহাদের প্রশ্নের কোন উত্তরই দিল না ; সে এমন ভাব দেখাইল যেন তাহাদের প্রশ্ন তাহার কৰ্ণে প্ৰবিষ্ট হয় নাই । তাহারাও করিমের ভাব দেখিয়া দ্বিতীয় প্রশ্ন করিল না । বেলা তখন নয়টা । বসিরের স্ত্রী গুহ কাৰ্য্য শেষ করিয়া স্নানে যাইবার আয়োজন করিতেছে। সেই সময় করিম বসিরের বাড়ীতে প্ৰবেশ করিল এবং “হা, আল্লা, কি করিলে।” বলিয়া, উঠানের উপর পড়িয়া গেল। বসিরের স্ত্রী দাবায় বসিয়া-তেল মাখিতেছিল; সে সহসা করিমকে তদাবস্থায় ফিরিয়া আসিতে দেখিয়া এবং তাহার কথা শুনিয়া চীৎকার করিয়া উঠিলু । বসিরের বৃদ্ধ মাতা ঘরের মধ্যে ছিল। সে বৌয়ের চীৎকার শুনিয়া “কি হলো কি হলো।”