পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Գe করিম সেখ “তুই, ভাবচিস কি রে মন । ঐ দেখি সুমুখে দাড়ায়ে আছেন পূর্ণাবেহ্ম সনাতন । খিদে পেলে আহার যোগান, তেষ্টা পেলে জল, আবার বেক্ষ ভ’রে রেখে দেছেন। পাকা পাকা ফল ; (ভোলা মন রে—) আবার, বিপদ কালে ডাকলে হরি, কোলে করেন নারায়ণ।” সত্য সত্যই নারায়ণই আজ এই অাধারে অধরকে পথ দেখাইয়া লইয়া চলিলেন ; সত্যসত্যই তাহার সম্মুখে পূৰ্ণব্ৰহ্ম সনাতনই আসিয়া দাড়াইয়া ছিলেন ; নতুবা এই বাদার জঙ্গলের মধ্য দিয়া রাত্রিকালে যাইতে বড় বড় সর্দারও কখন সাহস করে না। " রাত্ৰি প্ৰায় আটটার সময় অধর কাছারীতে পৌছিল। ডাক্তার বাবু ঔষধের বাক্সের জন্যই অপেক্ষা করিতেছিলেন বিপিন বাবু অধরকে বলিলেন “অধর, তুমি এখন তবে বাড়ী যাও।” অধর বলিল “আজ আর বাড়ী যাবে না, এখেনেই থাকি।” অধর কাছারীতেই থাকিল; সেখানেই আহারাদি করিয়া সমস্ত রাত্ৰি বসিরের কাছে বসিয়া রহিল। কোথাকার কে, মুসলমানের ছেলে বসির, তাহার সেবা করিবার জন্য অধর সমস্ত রাত্ৰি জাগিয়া রহিল। দুই দিন গেল ; জরও কমে না, বসিরেরও জ্ঞান হয় না । ডাক্তার প্রতিদিনই একবার করিয়া আসিতে লাগিলেন । বিপিনবাবুর আদেশে কাছারীর সকলেই বসিরের সেবা করিতে লাগিল। তিনদিন পরে তাহার জ্ঞান-সঞ্চার হইল, সে চক্ষু মেলিল। তখনই ডাক্তারের নিকট লোক ছুটিল। ডাক্তার আসিয়া বলিলেন “আর ভয় নাই, লোকটা বঁাচবে।” ܠܕ