পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিম সেখ y পাঁচ ছয় দিন পরেই বসিরের জ্বর ছাড়িয়া গেল ; কিন্তু আর এক বিপদ হইল ; তাহার স্মৃতিলোপ হইয়া গিয়াছিল। ‘বসির’ বলিয়া ডাকিলে সে ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া থাকে। সে কে, তাহার বাড়ী কোথায়, তাহার কে আছে, কোন কথারই ত সে উত্তর দিতে পারে না ; জিজ্ঞাসা করিলে শুধু বলে “জানি না ।” সে কিছুই জানে না ; কথা বলিতে পারে, ক্ষুধা তৃষ্ণার কথা বলিতে পারে, কিন্তু তাহার ইতিহাস সে একেবারে ভুলিয়া গিয়াছে। তাহার অতীত জীবনের একটী কথাও সে কিছুতেই স্মরণ করিতে পারে না। বিপিন বাৰু, অধর, কাছারীর আর আর সকলে কত রকমে তাহাকে প্রশ্ন করে ; সে ভাবিতে চেষ্টা করে ; শেষে বলিয়া উঠে “কৈ, কিছুই তা মনে পড়ে না।” তাহার বন্ধু করিম দেশে ‘ধন্দ পাগল’ হইল, আর সে এই বিদেশে পূৰ্ব্বস্মৃতি হারাইয়া নূতন মানুষ হইল। বিষের ক্রিয়া দুই বন্ধুর উপরই আরম্ভ হইয়াছিল। Sa বসির এখন কাছারীতেই থাকে। সে আর কোথায় যাইবে ? তাহার তা পূর্ব কথা কিছুই মনে পড়ে না । এখন অধর তাহার পরমবন্ধু। সে কাছারীর কাজকৰ্ম্ম যাহা পারে তাহাই করে; বিপিন বাবু যখন যেখানে যান, তাহার সঙ্গে লাঠি কঁধে করিয়া যায়। মনের আনন্দে তাহার দিন কাটিতেছে। তাহার অতীত-জীবন একেবারে মুছিয়া গিয়াছে; মায়ের কথা, স্ত্রীর কথা, প্ৰাণের বন্ধু করিমের কথা, কিছুই তাহার মনে হয় না। তাহার নূতন জীবন আরম্ভ হইয়াছে।