পাতা:কাদম্বরী.djvu/১২১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১১৭
কাদম্বরী।

দারিকে! আহা তোমা বই মদিরা ও চিত্ররথের কেহ নাই! তোমার হৃদয় বিদীর্ণ হইল, বোধ হইতেছে। প্রসন্ন হও, ধৈর্য্য, অবলম্বন কর। মদলেখার কথায় হাস্য করিয়া কহিলেন, অয়ি উন্মত্তে! ভয় কি? আমার হৃদয় পাষাণে নির্ম্মিত তাহা কি তুমি এখনও বুঝিতে পার নাই? ইহা বজ্র অপেক্ষাও কঠিন তাহা কি তুমি জানিতে পার নাই? যখন এই ভয়ঙ্কর ব্যাপার দেখিবামাত্র বিদীর্ণ হয় নাই, তখন আর বিদীর্ণ হইবার আশঙ্কা কি? হা এখনও জীবিত আছি! মরিবার এমন সময় আর কবে পাইব? সমুদায় দুঃখ ও সকল সন্তাপ শান্তি হইবার শুভ দিন উপস্থিত হইয়াছে। আহা আমার কি সৌভাগ্য! মরিবার সময় প্রাণেশ্বরের মুখকমল দেখিতে পাইলাম। জীবিতেশ্বরকে পুনর্ব্বার দেখিতে পাইব, এরূপ প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু বিধাতা অনুকূল হইয়া তাহাও ঘটাইয়া দিলেন। তবে আর বিলম্ব কেন? জীবিত ব্যক্তিরাই পিতা, মাতা, বন্ধু, বান্ধব, পরিজন ও সখীগণের অপেক্ষা করে। এখন আর তাঁহাদিগের অনুরোধ কি? এত দিনে সকল ক্লেশ দূর হইল, সকল যাতনা শান্তি হইল, সকল সন্তাপ নির্ব্বাণ হইল। যাহার নিমিত্ত লজ্জা, ধৈর্য্য, কুলমর্য্যাদা পরিত্যাগ করিয়াছি; বিনয়ে জলাঞ্জলি দিয়াছি; গুরুজনের অপেক্ষা পরিহার করিয়াছি; সখীদিগকে যৎপরোনাস্তি যাতনা দিয়াছি; প্রতিজ্ঞা লঙ্ঘন করিয়াছি; সে জীবন-সর্ব্বস্ব প্রাণেশ্বর প্রাণ ত্যাগ করিয়াছেন, আমি এখনও জীবিত আছি! সখি! তুমি আবার সেই ঘৃণাকর, লজ্জাকর প্রাণ রাখিতে অনুরোধ করিতেছ! এ সময় সুখে মরিবার সময়, তুমি বাধা দিও না।

 যদি আমার প্রতি প্রিয়সখীর স্নেহ থাকে ও আমার প্রিয়কার্য্য করিতে ইচ্ছা হয়, তাহা হইলে শোকে পিতা মাতার যাহাতে দেহ অবসান না হয়, বাসভবন শূন্য দেখিয়া সখীজন ও পরিজনেরা যাহাতে দিগ্দিগন্তে প্রস্থান না করে, এরূপ করিও। অঙ্গনমধ্যবর্ত্তী সহকারপোতকের সহিত তৎপার্শ্ববর্ত্তিনী মাধবীলতার বিবাহ