পাতা:কাদম্বরী.djvu/১৪১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


 
উপসংহার ।

কাদম্বরী ১৩৭.png


 কথায় কথায় নিশাবসান ও পূর্ব্বদিক্ ধূসরবর্ণ হইল। পম্পাসরোবরে কলহংসগণ কলরব করিয়া উঠিল। প্রভাতসমীরণ তপোবনের তরুপল্লব কম্পিত করিয়া মন্দ মন্দ বহিতে লাগিল। শশধরের আর প্রভা রহিল না। দূর্ব্বাদলের উপর নিশির শিশির মুক্তাকলাপের ন্যায় প্রভা পাইতে লাগিল। মহর্ষি হোমবেলা উপস্থিত দেখিয়া গাত্রোত্থান করিলেন। মুনিকুমারেরা এরূপ একাগ্রচিত্ত হইয়া কথা শুনিতেছিলেন এবং শুনিয়া এরূপ বিস্ময়াপন্ন হইলেন যে, মহর্ষিকে প্রণাম না করিয়াই প্রভাতকৃত্য সম্পাদন করিতে লাগিলেন। হারীত আমাকে লইয়া আপন পর্ণশালায় রাখিয়া নির্গত হইলেন। তিনি বহির্গত হইলে আমি চিন্তা করিতে লাগিলাম, এক্ষণে কি কর্ত্তব্য, যে দেহ প্রাপ্ত হইয়াছি, ইহা অতি অকিঞ্চিৎকর, কোন কর্ম্মের যোগ্য নয়। অনেক সুকৃত না থাকিলে মনুষ্যদেহ হয় না। তাহাতে আবার সর্ব্ববর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকুলে জন্ম লাভ করা অতি কঠিন কর্ম্ম। ব্রাহ্মণকুলে জন্ম গ্রহণ করিয়া তপস্বিবেশে জগদীশ্বরের আরাধনা ও অপবর্গের উপায় চিন্তা করা প্রায় কাহারও ভাগ্যে ঘটিয়া উঠে না। দিব্যলোকে নিবাসের ত কথাই নাই। আমি এই সমুদায় প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, কেবল আপন দোষে হারাইয়াছি। কোন কালে যে উদ্ধার পাইব তাহারও উপায় দেখিতেছি না। জন্মান্তরীণ বান্ধবগণের সহিত পুনর্ব্বার সাক্ষাৎ হইবার কিছুমাত্র সম্ভাবনা নাই। এ দেহে কোন প্রয়োজন নাই। এ প্রাণ পরিত্যাগ করাই শ্রেয়ঃ। আমাকে এক দুঃখ হইতে দুঃখান্তরে নিক্ষিপ্ত করাই বিধাতার সম্পূর্ণ মানস। ভাল, বিধাতার মানসই সফল হউক।

১৮