পাতা:কাদম্বরী.djvu/১৪৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৩৯
কাদম্বরী।

কের আয়ুষ্কর কর্ম্ম আরম্ভ করিয়াছি, ইহা সিদ্ধপ্রায়; যত দিন সমাপ্ত না হয় তুমি এই স্থানে অবস্থিতি কর, বলিয়া আমার ভয় ভঞ্জন করিয়া দিলেন। আমি তখন নির্ভয় চিত্তে নিবেদন করিলাম, তাত! পুণ্ডরীক যে স্থানে জন্ম গ্রহণ করিয়াছেন অনুগ্রহ পূর্ব্বক আমাকে তথায় যাইতে অনুমতি করুন। তিনি বলিলেন, বৎস! তোমার সখা শুকজাতিতে পতিত হইয়াছেন; এক্ষণে তুমি তাঁহাকে চিনিতে পারিবে না। তাঁহারও তোমাকে দেখিয়া মিত্র বলিয়া প্রত্যভিজ্ঞা হইবে না। অদ্য প্রাতঃকালে আমাকে ডাকিয়া কহিলেন, বৎস! তোমার সখা মহর্ষি জাবালির আশ্রমে আছেন। পূর্ব্বজন্মের সমুদায় বৃত্তান্ত তাঁহার স্মৃতিপথবর্ত্তী হইয়াছে; এক্ষণে তোমাকে দেখিলেই চিনিতে পারিবেন। অতএব তুমি তাঁহার নিকটে যাও। যত দিন আরব্ধ কর্ম্ম সমাপ্ত না হয়, তাবৎ তাঁহাকে জাবালির আশ্রমে থাকিতে কহিও। তোমার মাতা লক্ষ্মী দেবীও সেই কর্ম্মে ব্যাপৃত আছেন। তিনিও আশীর্ব্বাদ প্রয়োগ পূর্ব্বক উহাই বলিয়া দিলেন। কপিঞ্জল এই কথা বলিয়া দুঃখিত চিত্তে আমার গাত্র স্পর্শ করিতে লাগিলেন। আমিও তাঁহার ঘোটকরূপ ধারণের সময় যে যে ক্লেশ হইয়াছিল, তাহার উল্লেখ করিয়া দুঃখ প্রকাশ করিতে লাগিলাম। মধ্যাহ্নকাল উপস্থিত হইলে আহারাদি করিয়া, সখে! যাবৎ সেই কর্ম্ম সমাপ্ত না হয় তাবৎ এই স্থানে থাক। আমিও সেই কর্ম্মে ব্যাপৃত আছি, শীঘ্র তথায় যাইতে হইবেক, চলিলাম বলিয়া বিদায় হইলেন। দেখিতে দেখিতে অন্তরীক্ষে উঠিলেন ও ক্রমে অদৃ্শ্য হইলেন।

 হারীত যত্ন পূর্ব্বক আমার লালন পালন করিতে লাগিলেন। ক্রমে বলাধান হইল এবং পক্ষোদ্ভেদ হওয়াতে গমন করিবার শক্তি জন্মিল। একদা মনে মনে চিন্তা করিলাম, এক্ষণে উড়িবার সামর্থ্য হইয়াছে, এক বার মহাশ্বেতার আশ্রমে যাই। এই স্থির করিয়া উত্তর দিকে গমন করিতে লাগিলাম। গমন করা অভ্যাস