পাতা:কাদম্বরী.djvu/১৪৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৪১
কাদম্বরী।

কের ক্রীড়াসামগ্রী হইব এবং ম্লেচ্ছ জাতির অপবিত্র অন্নে এই দেহ পোষিত হইবেক। হা মাতঃ! কেন আমি গর্ভেই বিলীন হই নাই! হা পিতঃ! আর ক্লেশ সহ্য করিতে পারি না। হা বিধাতঃ! তোমার মনে এই ছিল! এই বলিয়া বিলাপ করিতে লাগিলাম। পুনর্ব্বার বিনয়বচনে কিরাতকে কহিলাম, ভ্রাতঃ! আমি জাতিস্মর মুনিকুমার, কেন চণ্ডালের আলয়ে লইয়া গিয়া আমার দেহ অপবিত্র কর? ছাড়িয়া দাও, তোমার যথেষ্ট পুণ্যলাভ হইবেক। পুনঃ পুনঃ পাদপতনপুরঃসর অনেক অনুনয় করিলাম; কিছুতেই তাহার পাষাণময় অন্তঃকরণে দয়া জন্মিল না। কহিল, রে মোহান্ধ! পরাধীন ব্যক্তিরা কি স্বামীর আদেশ অবহেলন করিতে পারে? এই বলিয়া পক্কণাভিমুখে আমাকে লইয়া চলিল।

 কতক দূর গিয়া দেখি, কেহ মৃগবন্ধনের বাগুরা প্রস্তুত করিতেছে; কেহ ধনুর্ব্বাণ নির্ম্মাণ করিতেছে; কেহ বা কূটজাল রচনা করিতে শিখিতেছে; কাহার হস্তে কোদণ্ড কাহার হস্তে লৌহদণ্ড। সকলেরই আকার ভয়ঙ্কর। সুরাপানে সকলের চক্ষু জবাবর্ণ। কোন স্থানে মৃত হরিণশাবক পতিত রহিয়াছে। কেহ বা তীক্ষ্ণধার ছুরিকা দ্বারা মৃগমাংস খণ্ড খণ্ড করিতেছে। পিঞ্জরবদ্ধ পক্ষিগণ ক্ষুৎপিপাসায় ব্যাকুল হইয়া চীৎকার করিতেছে। কেহ এক বিন্দু বারি দান করিতেছে না। এই সকল দেখিয়া অনায়াসে বুঝিলাম, উহা চণ্ডালরাজের আধিপত্য। উহার আলয় যেন যমালয় বোধ হইল। ফলতঃ তথায় এরূপ একটীও লোক দেখিতে পাইলাম না, যাহার অন্তঃকরণে কিছুমাত্র করুণা আছে। কিরাত চণ্ডালকন্যার হস্তে আমাকে সমর্পণ করিল। কন্যা অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়া কাষ্ঠের পিঞ্জরে আমাকে বদ্ধ করিয়া রাখিল। পিঞ্জরবদ্ধ হইয়া ভাবিলাম, যদি বিনয় পূর্ব্বক কন্যার নিকট আত্মমোচনের প্রার্থনা করি, তাহা হইলে, যে নিমিত্ত আমাকে ধরিয়াছে তাহারই পরিচয় দেওয়া হয়; অর্থাৎ মনুষ্যের ন্যায় সুস্পষ্ট কথা কহিতে