পাতা:কাদম্বরী.djvu/৪৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৩
কাদম্বরী।

ও তপস্যায় অভিনিবেশের কারণ, সমুদায় জিজ্ঞাসা করিয়া জানিব। এই স্থির করিয়া সেই মন্দিরের এক পার্শ্বে উপবেশন পূর্ব্বক সঙ্গীতসমাপ্তির অবসর প্রতীক্ষা করিয়া রহিলেন।

 সঙ্গীত সমাপ্ত হইলে বীণা নিস্তব্ধ হইল। কন্যা গাত্রোত্থান পূর্ব্বক ভক্তিভাবে ভগবান্ ত্রিলোচনকে প্রদক্ষিণ করিয়া প্রণাম করিলেন। অনন্তর পবিত্র নেত্রপাত দ্বারা রাজকুমারকে পরিতৃপ্ত করিয়া সাদর সম্ভাষণে স্বাগত জিজ্ঞাসা করিলেন ও বিনীত ভাবে কহিলেন, মহাশয়! আশ্রমে চলুন ও অতিথিসৎকার গ্রহণ করিয়া চরিতার্থ করুন। রাজকুমার সম্ভাষণমাত্রেই আপনাকে পরিগৃহীত ও চরিতার্থ বোধ করিয়া ভক্তি পূর্ব্বক তাপসীকে প্রণাম করিলেন ও শিষ্যের ন্যায় তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলেন। যাইতে যাইতে চিন্তা করিলেন, তাপসী আমাকে দেখিয়া অন্তর্হিত হইলেন না; প্রত্যুত দাক্ষিণ্য প্রকাশ করিয়া অতিথিসৎকার গ্রহণ করিতে অনুরোধ করিলেন। বোধ হয়, জিজ্ঞাসা করিলে আত্মবৃত্তান্তও বলিতে পারেন।

 কতক দূর যাইয়া এক গিরিগুহা দেখিলেন। উহার পুরোভাগ তমালবনে আবৃত, তথায় দিনমণি দৃষ্টিগোচর হয় না। পার্শ্বে নির্ঝরবারি ঝর্ঝর শব্দে পতিত হইতেছে। দূর হইতে উহার শব্দ কি মনোহর! অভ্যন্তরে বল্কল, কমণ্ডলু ও ভিক্ষাকপাল রহিয়াছে। দেখিবামাত্র মনে শান্তিরসের সঞ্চার হয়। তাপসী তথায় প্রবেশিয়া অর্ঘ্যসামগ্রী আহরণ পূর্ব্বক অর্ঘ্য আনয়ন করিলেন। রাজকুমার মৃদু মধুর সম্ভাষণে কহিলেন, ভগবতি! প্রসন্ন হউন, আপনকার দর্শনমাত্রেই আমি পবিত্র হইয়াছি এবং অর্ঘ্যও প্রদত্ত হইয়াছে। অত্যাদর প্রকাশ করার প্রয়োজন নাই। আপনি উপবেশন করুন। পরিশেষে তাপসীর অনুরোধ এড়াইতে না পারিয়া রাজকুমার যথাবিহিত অর্ঘ্য গ্রহণ করিলেন। দুই জন শিলাতলে উপবিষ্ট হইলেন। তাপসী রাজকুমারের পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি আপনার নাম, ধাম ও দিগ্বিজয়ের কথা বিশেষ করিয়া কহিলেন এবং