পাতা:কাদম্বরী.djvu/৫১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৭
কাদম্বরী।

কুসুমমঞ্জরী কেহ কখন দেখে নাই। উহার গন্ধ আঘ্রাণ করিয়া স্থির করিলাম, উহার গন্ধে বন আমোদিত হইয়াছে। অনন্তর অনিমিষ লোচনে মুনিকুমারের মোহিনী মূর্ত্তি নেত্রগোচর করিয়া বিস্মিত হইলাম। ভাবিলাম, বিধাতা বুঝি কমল ও চন্দ্রমণ্ডল সৃষ্টি করিয়া ইঁহার বদনারবিন্দ নির্ম্মাণের কৌশল অভ্যাস করিয়া থাকিবেন। ঊরু ও বাহুযুগ সৃষ্টি করিবার পূর্ব্বে রম্ভাতরু ও মৃণালের সৃষ্টি করিয়া নির্ম্মাণকৌশল শিখিয়া থাকিবেন। নতুবা সমানাকার দুই তিন বস্তু সৃষ্টি করিবার প্রয়োজন কি? ফলতঃ মুনিকুমারের রূপ যতবার দেখি তত বারই অভিনব বোধ হয়। এইরূপ তাঁহার রমণীয় রূপের পক্ষপাতিনী হইয়া ক্রমে ক্রমে কুসুমশরের শরসন্ধানের পথবর্ত্তিনী হইলাম। কি মুনিকুমারের রূপসম্পত্তি, কি যৌবনকাল, কি বসন্তকাল, কি সেই সেই প্রদেশ, কি অনুরাগ, জানি না কে আমাকে উন্মাদিনী করিল। বারংবার মুনিকুমারকে সস্পৃহ লোচনে দেখিতে লাগিলাম। বোধ হইল যেন, আমার হৃদয়কে রজ্জুবদ্ধ করিয়া কেহ আকর্ষণ করিতেছে।

 অনন্তর স্বেদসলিলের সহিত লজ্জা গলিত হইল। মকরধ্বজের নিশিত শরপাতভয়ে ভীত হইয়াই যেন, কলেবর কম্পিত হইল। মুনিকুমারকে আলিঙ্গন করিবার আশয়েই যেন, শরীর রোমাঞ্চরূপ কর প্রসারণ করিল। তখন মনে মনে চিন্তা করিলাম, শান্তপ্রকৃতি তাপসজনের প্রতি আমাকে অনুরাগিণী করিয়া দুরাত্মা মন্মথ কি বিসদৃশ কর্ম্ম করিল। অঙ্গনাজনের অন্তঃকরণ কি বিমূঢ়! অনুরাগের পাত্রাপাত্র কিছুই বিবেচনা করিতে পারে না। তেজঃপুঞ্জ তপোরাশি, মুনিকুমারই বা কোথায়? সামান্য জনসুলভ চিত্তবিকারই বা কোথায়? বোধ হয় ইনি আমার ভাবভঙ্গি দেখিয়া মনে মনে কত উপহাস করিয়াছেন। কি আশ্চর্য্য! চিত্ত বিকৃত হইয়াছে বুঝিতে পারিয়াও বিকার নিবারণ করিতে সমর্থ হইতেছি না। দুরাত্মা কন্দর্পের কি প্রভাব! ইহার প্রভাবে কত শত কন্যা লজ্জা ও কুলে জলাঞ্জলি দিয়া স্বয়ং প্রিয়তমের