পাতা:কাদম্বরী.djvu/৫৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৯
কাদম্বরী।

গ্রহণ কর বলিয়া লক্ষ্মী শ্বেতকেতুকে সেই পুত্ত্র সন্তান সমর্পণ করেন। মহর্ষি পুত্ত্রের সমুদায় সংস্কার সম্পন্ন করিয়া পুণ্ডরীকে জন্মিয়াছিলেন বলিয়া পুণ্ডরীক নাম রাখেন। যাঁহার কথা জিজ্ঞাসা করিতেছ, ইনি সেই পুণ্ডরীক। পূর্ব্বে অসুর ও সুরগণ যখন ক্ষীরসাগর মন্থন করেন, তৎকালে পারিজাত বৃক্ষ তথা হইতে উদ্গত হয়। এই কুসুমমঞ্জরী সেই পারিজাত বৃক্ষের সম্পত্তি। ইহা যেরূপে ইঁহার শ্রবণগত হইয়াছে তাহাও শ্রবণ কর। অদ্য চতুর্দ্দশী, ইনি ও আমি ভগবান্ ভবানীপতির অর্চ্চনার নিমিত্ত নন্দনবনের নিকট দিয়া কৈলাসপর্ব্বতে আসিতেছিলাম। পথিমধ্যে নন্দনবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা এই পারিজাতকুসুমমঞ্জরী হস্তে লইয়া আমাদের নিকটবর্ত্তিনী হইলেন; প্রণাম করিয়া ইঁহাকে বিনীত বচনে কহিলেন, ভগবন্! আপনার যেরূপ আকার তাহার সদৃশ এই অলঙ্কার, আপনি এই কুসুমমঞ্জরীকে শ্রবণমণ্ডলে স্থান দান করিলে আমি চরিতার্থ হই। বনদেবতার কথায় অনাদর করিয়া ইনি চলিয়া যাইতেছিলেন, আমি তাঁহার হস্ত হইতে মঞ্জরী লইয়া কহিলাম, সখে! দোষ কি! বনদেবতার প্রণয় পরিগ্রহ করা উচিত, এই বলিয়া ইঁহার কর্ণে পরাইয়া দিলাম।

 তিনি এইরূপ পরিচয় দিতেছিলেন এমন সময়ে সেই তপোধনযুবা কিঞ্চিৎ হাস্য করিয়া কহিলেন, অয়ি কুতূহলাক্রান্তে! তোমার এত অনুসন্ধানে প্রয়োজন কি? যদি কুসুমমঞ্জরী লইবার বাসনা হইয়া থাকে, গ্রহণ কর এই বলিয়া আমার নিকটবর্ত্তী হইলেন এবং আপনার কর্ণদেশ হইতে উন্মোচন করিয়া আমার শ্রবণপুটে পরাইয়া দিলেন। আমার গণ্ডস্থলে তাঁহার হস্তস্পর্শ হইবামাত্র অন্তঃকরণে কোন অনির্ব্বচনীয় ভাবোদয় হওয়াতে তিনি অবশেন্দ্রিয় হইলেন। করতলস্থিত অক্ষমালা হৃদয়স্থিত লজ্জার সহিত গলিত হইল জানিতে পারিলেন না। অক্ষমালা তাঁহার পাণিতল হইতে ভূতলে পড়িতে না পড়িতেই আমি ধরিলাম ও আপন কণ্ঠের আভরণ করিলাম। এই সময়ে ছত্রধারিণী আসিয়া