পাতা:কাদম্বরী.djvu/৬৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৬১
কাদম্বরী।

লজ্জা ও গুরুজনের অপেক্ষা পরিহার পূর্ব্বক, প্রসন্ন চিত্তে আমাকে পাঠাইয়া দাও, আমি তোমার চিত্তচোরকে এই স্থানে আনিতেছি। অথবা ইচ্ছা হয় চল, তথায় তোমাকে লইয়া যাই। তোমার আর এরূপ সাংঘাতিক সঙ্কট পুনঃ পুনঃ দেখিতে পারি না। তরলিকে! আমিও আর এরূপ ক্লেশকর বিরহবেদনা সহ্য করিতে পারি না। চল, প্রাণ থাকিতে থাকিতে সেই প্রাণবল্লভের শরণাপন্ন হই। এই বলিয়া তরলিকাকে অবলম্বন করিয়া উঠিলাম।

 প্রাসাদ হইতে অবরোহণ করিবার উপক্রম করিতেছি এমন সময়ে দক্ষিণ লোচন স্পন্দ হইল। দুর্নিমিত্ত দর্শনে শঙ্কাতুর হইয়া ভাবিলাম, এ আবার কি! মঙ্গলকর্ম্মে অমঙ্গলের লক্ষণ উপস্থিত হয় কেন? ক্রমে ক্রমে শশধর আকাশমণ্ডলের মধ্যবর্ত্তী হইয়া সুধাসলিলের ন্যায়, চন্দনরসের ন্যায় জ্যোৎস্না বিস্তার করিলে, ভূমণ্ডল কৌমুদীময় হইয়া শ্বেতবর্ণ দ্বীপের ন্যায় ও চন্দ্রলোকের ন্যায় বোধ হইতে লাগিল। কুমুদিনী বিকসিত হইল। মধুকর মধুলোভে তথায় বসিতে লাগিল। নানাবিধ কুসুমরেণু হরণ করিয়া সুগন্ধ গন্ধবহ দক্ষিণ দিক্ হইতে মন্দ মন্দ বহিতে লাগিল। ময়ূরগণ উন্মত্ত হইয়া মনোহর স্বরে গান আরম্ভ করিল। কোকিলের কলরবে চতুর্দ্দিক ব্যাপ্ত হইল। আমি কণ্ঠস্থিত সেই অক্ষমালা ও কর্ণস্থিত সেই পারিজাতমঞ্জরী ধারণ করিয়া, রক্তবর্ণ বসনে অবগুণ্ঠিত হইয়া তরলিকার হস্ত ধারণ পূর্ব্বক প্রাসাদের শিখরদেশ হইতে নামিলাম। সৌভাগ্যক্রমে কেহ আমাকে দেখিতে পাইল না। প্রমদবনের নিকটে যে দ্বার ছিল তাহা উদ্ঘাটন পূর্ব্বক বাটী হইতে নির্গত হইয়া প্রিয়তমের সমীপে চলিলাম। যাইতে যাইতে ভাবিলাম, অভিসারপথে প্রস্থিত ব্যক্তির দাস দাসী ও বাহ্য আড়ম্বরের প্রয়োজন থাকে না। যেহেতু কন্দর্প সদর্পে শরাসনে শরসন্ধান পূর্ব্বক অগ্রে অগ্রে গমন করিয়া সহায়তা করেন। চন্দ্র পথ আলোকময় করিয়া পথপ্রদর্শক হন। হৃদয় পুরোবর্ত্তী হইয়া অভয় প্রদান করে।


এই পাতার পাঠ-প্রতিষ্ঠায় অজরচন্দ্র সরকার সম্পাদিত সংস্করণের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। লিঙ্ক মূলগ্রন্থ পরিসরের আলাপ-পাতায় দেওয়া আছে।