পাতা:কাদম্বরী.djvu/৮৪

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৮০
কাদম্বরী৷

একবার অনুরাগ সঞ্চার হইলে তাহা ক্ষালিত করা দুঃসাধ্য। কাদম্বরী এইরূপ ভাবিতেছিলেন এমন সময়ে প্রণয় যেন সহসা তথায় আসিয়া কহিল, কাদম্বরী! কি ভাবিতেছ? তোমার অলীক অনুরাগে ও কপট মিত্রতায় বিরক্ত হইয়া চন্দ্রাপীড় এখান হইতে প্রস্থান করিতে উদ্যত হইয়াছেন। গন্ধর্ব্বকুমারী তখন আর স্থির হইয়া থাকিতে পারিলেন না। অমনি শয্যা হইতে ত্বরায় উঠিয়া গবাক্ষদ্বার উদ্ঘাটন পূর্ব্বক এক দৃষ্টে ক্রীড়াপর্ব্বতের দিকে চাহিয়া রহিলেন।

 চন্দ্রাপীড় মণিমন্দিরে প্রবেশিয়া শিলাতলবিন্যস্ত শয্যায় শয়ন করিয়া মনে মনে চিন্তা করিলেন, গন্ধর্ব্বরাজদুহিতা আমার সমক্ষে যেরূপ ভাব ভঙ্গি প্রকাশ করিলেন সে সকল কি তাঁহার স্বাভাবিক বিলাস, কি মকরকেতু আমার প্রতি প্রসন্ন হইয়া প্রকাশ করাইলেন? তাঁহার তৎকালীন বিলাসচেষ্টা স্মরণ করিয়া আমার অন্তঃকরণ চঞ্চল হইতেছে। আমি যখন সেই সময়ে তাঁহার প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তখন মুখ অবনত করিয়াছিলেন। যখন অন্যাসক্তদৃষ্টি হই তখন আমার প্রতি কটাক্ষপাত পূর্ব্বক ছলক্রমে মন্দ মন্দ হাসিয়াছিলেন। অনঙ্গ উপদেশ না দিলে এ সকল বিলাস প্রকাশ হয় না। যাহা হউক, অলীক সংকল্পে প্রতারিত হওয়া বুদ্ধিমানের কর্ম্ম নহে। অগ্রে তাঁহার মন পরীক্ষা করিয়া দেখা উচিত। এই স্থির করিয়া সমভিব্যাহারিণী বীণাবাদিনী ও গায়িকাদিগকে গান বাদ্য আরম্ভ করিতে আদেশ দিলেন। গানভঙ্গ হইলে উপবনের শোভা অবলোকন করিবার নিমিত্ত ক্রীড়াপর্ব্বতের শিখরদেশে উঠিলেন। কাদম্বরী গবাক্ষদ্বার দিয়া দেখিতে পাইয়া মহাশ্বেতার আগমন দর্শনচ্ছলে তথা হইতে প্রাসাদের উপরিভাগে আরোহণ করিয়া হৃদয়বল্লভের প্রতি অনুরাগসঞ্চারের চিহ্নস্বরূপ নানাবিধ অনঙ্গলীলা ও মনোহর বিলাস প্রকাশ করিতে লাগিলেন। তাহাতেই এরূপ অন্যমনস্ক হইলেন যে, যে ব্যপদেশে প্রাসাদের শিখরদেশে উঠিলেন তাহাতে কিছুমাত্র মনোযোগ