পাতা:কাব্যগ্রন্থ (নবম খণ্ড).pdf/৫৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ফাঙ্কনী ফাল্গুনের হাওয়াটা যা-খুসি-তাই করচে তেমনিতর ! হাতে কিছু তৈরি আছে হে ? একটা নাটক, কিম্বা প্রকরণ, কিম্বা রূপক, কিম্বা ভাণ, কিম্বা— তৈরি আছে—কিন্তু সেটা নাটক, কি প্রকরণ, কি রূপক, কি ভাণ তা ঠিক বলতে পারব না ! যা রচনা করেচ তা’র অর্থ কি কিছু গ্রহণ করতে পারব ? না মহারাজ ! রচনা ত অর্থ গ্রহণ করবার জন্যে নয় । তবে ? সেই রচনাকেই গ্রহণ করবার জন্যে । আমি ত বলেচি আমার এ সব জিনিষ বাশির মত, বোঝবার জন্যে নয়, বাজবার জন্যে। বল কি হে কবি, এর মধ্যে তত্ত্বকথা কিছুই নেই ? কিচছু না ! তবে তোমার ও রচনাটা বলচে কি ? ও বলচে, আমি আছি ! শিশু জন্মাবামাত্র চেচিয়ে ওঠে, সেই কান্নার মানে জানেন মহারাজ ? শিশু হঠাৎ শুনতে পায় জলস্থল আকাশ তা’কে চারদিক থেকে বলে উঠেচে—“আমি আছি !”—তা’রই উত্তরে ঐ প্রাণটুকু সাড়া পেয়ে বলে’ ওঠে—“আমি আছি।” আমার রচনা সেই সদ্যোজাত শিশুর কান্না, বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডের ডাকের উত্তরে প্রাণের সাড়া ! তা’র বেশি আর কিচছু না ? ©Ꮤ%☾