পাতা:কৃষিতত্ত্ব - নীলকমল লাহিড়ী.pdf/১০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

কৃষিতত্ত্ব SS করিতে হইবে। উপরে ফাক ফাক করিয়া বাঁশ দিয়া তাহার উপর খড় দিয়া আচ্ছাদন করিয়া দিতে হইবে। রৌদ্রের উত্তাপ ও বায়ুতে ইহা নষ্ট হয়। চাষের সময় ক্ষেত্রে গোময়ের এবং খৈলের সার প্রচুর পরিমাণে দিতে হয় । চারা জন্মিবার পরে ও প্ৰতিবৎসর অন্ততঃ তিন বার সারা দেওয়া কৰ্ত্তব্য। প্রথমতঃ স্বতন্ত্র স্থানে চার জন্মাইতে হয়। যে পরিমাণে চার জন্মান আবশ্যক, সেই পরিমাণে বিবেচনা করিয়া প্রয়োজনমত দীর্ঘ প্ৰশস্ত ও দুই ফুট গভীর এক একটী গৰ্ত্ত করিয়া উত্তম দোয়াস মৃত্তিকার সহিত গোময় ও খৈলের সার মিশ্ৰিত করিয়া তন্দ্বারা ঐ গৰ্ত্ত পূরণ করিবে এবং জল দিয়া কৰ্দম করিবে, তদনন্তর পুরাতন পানের ক্ষেত্ৰ হইতে পানের গাছের গোড়ায় মৃত্তিকার নীচে যে কাণ্ড (নাল ) জড়ান থাকে, তাহা কাটিয়া আনিয়া ঐ স্থানে প্রোথিত করিয়া রাখিতে হইবে, কিন্তু সমুদয় কাণ্ড যেন মৃত্তিকার নীচে প্রোথিত না হয়। কাণ্ডের অৰ্দ্ধভাগ মৃত্তিকার উপরে থাকিবে, অৰ্দ্ধভাগ মুক্তিকার নীচে থাকিবে। মৃত্তিকা কিঞ্চিৎ শুষ্ক হইলে তাহার উপর শুষ্ক ঘাস অথবা খড় দিয়া তাহার উপর চূৰ্ণবৎ মৃত্তিক চাপা দিবে। কিন্তু অতি অল্প মৃত্তিক চাপা দিতে হইবে। প্ৰতিদিবস সন্ধ্যার সময়ে পরিমিতরূপে জল দিবে । যে স্থানে রৌদ্রের উত্তাপ না লাগে, এরূপ স্থানে ঐ রূপে চার জন্মাইতে হয়। রৌদ্রের উত্তাপ লাগিলে চারা জন্মিবার ব্যাঘাত হয়। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস চারা জন্মিবার উপযুক্ত সময়। বিশেষ যত্ন করিলে অন্য সময়েও জন্মান যাইতে পারে। ফাস্তুন ও চৈত্র মাস হইতে ক্ষেত্ৰ প্ৰস্তুত করিবার। কাৰ্য্য আরম্ভ করিতে হয় । আট দশ দিন পরে ঐ সকল কাণ্ডের গাটে গাটে শীকড় ও অন্ধুর ত হয়। সমুদয় কাণ্ডের শীকড় এবং অন্ধুর বহির্গত হইলে উঠাইয়া শীকড় ও অন্ধুর যুক্ত এক একটী চারি চারি অঙ্গুলী পরিমাণ কৰ্ত্তন করিয়া খণ্ড খণ্ড করিতে হইবে। তদনন্তর পূৰ্ব্বোক্ত মত প্ৰস্তুতীকৃত ক্ষেত্রে উহা রোপণ করিতে হইবে। তিন ফুট স্থানের মধ্যে সমান্তারাল চারি শ্রেণি রোপণ করিয়া আর তিন ফুট স্থান ত্যাগ করিয়া পুনর্বাের তিন ফুটের মধ্যে চারি শ্রেণি এই প্রকারে ক্ষেত্রে যত শ্রেণি করিবার ইচ্ছা হয়, তত শ্রেণি রোপণ করিবে । এক শ্রেণিতে এক