পাতা:কৃষ্ণচরিত্র.djvu/২৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

fr; রাক্ষসগণের বধ, প্রকৃত , তবে, এ মিথ্যা বাক্য কৃষ্ণমুখে সাজাইবার উদ্দেশু কি ? ; : . : এ সম্বন্ধে কেবল আর একটা কথা বলিব। ভক্তে বলিতে পারিবেন, কৃষ্ণ ইচ্ছার দ্বার সকলই করিতেছেন। তাহার ইচ্ছাতেই হিড়িম্বাদি বধ, এবং ঘটোৎকচের প্রতি । কর্ণের শক্তি প্রযুক্ত হইয়াছিল। এ কথা সঙ্গত নহে। কৃষ্ণই বলিতেছেন যে, তিনি বিবিধ “উপায় উদ্ভাবন” করিয়া ইহা করিয়াছেন। আর যদি ইচ্ছাময় সৰ্ব্বকৰ্ত্ত ইচ্ছাদ্ধারা এ সকল কাৰ্য্য সাধন করিবেন, তবে মনুষ্যশরীর লইয়া অবতীর্ণ হইবার প্রয়োজন কি ছিল ? আমরা পুনঃ পুনঃ দেখিয়াছি যে কৃষ্ণ ইচ্ছাশক্তির দ্বারা কোন কৰ্ম্ম করেন না ; পুরুষকার অবলম্বন করেন। তিনি নিজেও তাহ বলিয়াছেন ; সে কথা পূৰ্ব্বে উদ্ধৃত করিয়াছি । দেখা গিয়াছে যে তিনি ইচ্ছা করিয়াও যত্ন করিয়া সন্ধিসংস্থাপন করিতে পারেন নাই, বা কর্ণকে যুধিষ্ঠিরের পক্ষে আনিতে পারেন নাই। আর যদি ইচ্ছার দ্বারা কৰ্ম্ম সম্পন্ন করিবেন, তবে ছাই ভস্ম জড়পদার্থ একটা শক্তি-অস্ত্রের জন্য ইচ্ছাময়ের এত ভাবনা কেন ? ইহার ভিতরে আসল কথাট, যাহা পূৰ্ব্বপরিচ্ছেদে বলিয়াছি। বুদ্ধি ঈশ্বরপ্রেরিত, হুৰ্বদ্ধিও ঈশ্বরপ্রেরিত, কবি এই কথা বলিতে চাহেন। কর্ণ অর্জুনের জন্য ঐন্দ্রী শক্তি তুলিয়া রাখিয়াছিলেন, এখন যে ঘটোৎকচের উপর তাহ। পরিত্যাগ করিলেন, ইহা কর্ণের চূৰ্বদ্ধি। কৃষ্ণ বলিতেছেন, সে আমি করাইয়াছি ; অর্থাৎ ছৰ্বদ্ধি ঈশ্বরপ্রেরিত। শিশুপাল দুৰ্ব্বদ্ধিক্রমে সভাতলে কৃষ্ণের অসহ অপমান করিয়াছিলেন। জরাসন্ধ, সৈন্তসাহায্যে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলে অজেয় , পাণ্ডবের কথা দূরে থাকু, কৃষ্ণসনাথ যাদবেরাও র্তাহাকে জয় করিতে পারেন নাই। কিন্তু শারীরিক বলে ভীম উাহার অপেক্ষ বলবান ; একাকী ভীমের সঙ্গে মল্লের মত বাহুযুদ্ধে প্রবৃত্ত হওয়া, তাদৃশ রাজরাজেশ্বর সম্রাটের পক্ষে ছবুদ্ধি। কৃষ্ণোক্তির মৰ্ম্ম এই যে, সে ঘর্বদ্ধিও আমার প্রেরিত। ড্রোণাচাৰ্য্য অনাৰ্য্য একলব্যের নিকট গুরুদক্ষিণস্বরূপ তাহার দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ চাহিয়াছিলেন। ঐ অঙ্গুষ্ঠ গেলে বহুকষ্টলন্ধ একলব্যের ধন্থবিবদ্যা নিস্ফল হয়। কিন্তু একলব্য সে প্রার্থিত গুরুদক্ষিণা দিয়াছিলেন । ইহা একলব্যের দারুণ ছৰ্ব্বদ্ধি। কৃষ্ণের কথার মৰ্ম্ম এই যে, সে ছৰ্বদ্ধি র্তাহার প্রেরিত—ঈশ্বরপ্রেরিত। রাক্ষসবধ সম্বন্ধেও ঐরূপ । এ সমস্তই দ্বিতীয় স্তর । - ময়ে * r :