পাতা:ক্রৌঞ্চ-মিথুনের মিলন-সেতু - অনুরূপা দেবী.pdf/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৭
সর্ব্বকালের হাওয়া

 প্রশ্নকারী বিব্রত বিপন্নতার সহিত তাড়াতাড়ি করিয়া বলিলেন, “না না, তা’তো বলিনি; তবে এরকম রাগ কেন হলো? রাগের কারণটা কি তাই জানতে চাইছি।”

 “জিজ্ঞেস করলেই পারতে তোমাদের সেই মুখপোড় যমের অরুচি পুষ্যিপুত্তরকে! কেন করলুম? রাগে ঘেন্নায় মানুষ পাগল হয়ে যায় না! কু-চরিত্তিরকে নিয়ে ঘর করতে রুচি কতদিন থাকে মানুষের বল ত? সহ্যির তো একটা সীমা আছে! কোন্ চুলোমুখীর চুলোর দোরে সারারাত কাটিয়ে বাড়ী ফিরেছিল সেটা ওকে তোমর বুঝি শুধোতে পারনি? কেন লজ্জা করেছিল?”

 স্বামী-স্ত্রীতে দেখা করাইয়া দেওয়া কর্ত্তৃপক্ষরা হয়ত কর্ত্তব্য বোধ করিয়া ছিলেন। পরাণ কাঁদিয়া আপত্তি করিলেও শুনিলেন না। যখন জয়দুর্গার সঙ্গে তার দেখা হইল তখন তাহার মুমূর্ষু অবস্থা। গলার স্বর গলা দিয়া বাহির হইতে চায় না, কানেও সহজে বাহিরের স্বর ঢোকে না। তথাপি দর্শকের পরিচয় বারবার করিয়া জানানো হইলে অর্দ্ধনিমিলিত নেত্র বারেক মাত্র উন্মীলন করিয়া সে তার সম্মুখে চাহিয়া দেখিবার চেষ্টা করিল। চোখে জাল পড়িয়া গিয়াছে, সমস্তই তার কাছে ধোঁয়ার মত অস্পষ্ট, নাভিশ্বাসের ঘন ঘন আন্দোলনে অতবড় শরীরটা তার ঢেউয়ে পড়া ক্ষুদ্র তৃণখণ্ডের মতই সমানে আন্দোলিত হইতেছিল, তাহারই মধ্য হইতে জয়দুর্গা কোনমতে এই কথা কয়টা মাত্র বলিল:

 “ওকে বলো যেন গয়ার পেরেত শিলেয় গিয়ে একটা পিণ্ডি চটকায়, নইলে কি পেত্নী হয়ে শেষে ওর আর ওর সেই হতচ্ছাড়ি সোহাগী আঁচল-দুলুনীর ঘাড় ভাঙ্গবো?”

 পরাণকে জয়দুর্গা ফাঁসী বা আন্দামন গমন হইতে বাঁচাইয়া দিয়া গেলেও তার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রামের লোকেরা কেহই