পাতা:ক্লিওপেট্রা (নবীনচন্দ্র সেন).pdf/২৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

( ১৫ )

 “সিজার মিশরে!—দূরে গেল রণ-সজ্জা।
নব “ফার্শেলিয়া,” “পম্পি,” বিজয়ী সিজার,
মিশরের সিংহাসনে! খুলিলাম সখি!
রণবেশ, দীনাবেশে রোমেশ-চরণে
পড়িলাম,—সে কুহক আছে কি হে মনে?[১]
ঝটিকায় ছিন্নমূল ব্রততী যেমতি,
বন্দে মহীরুহ, হায়! নিরাশ্রয়া লতা!
 “সে ঐন্দ্রজালিক, সখি! কর-সঞ্চালনে
নিবারি তুমুল ঝড়, রক্ষিল আমারে,
আলিঙ্গিয়া স্নেহ ভরে। প্রিয় সখি! হায়!
জীবনে প্রথম এই,—এই মরু ভূমে—
স্নেহ-সুশীতল বারি হ’লো বরিষণ।
নিষ্ঠুর জনক যার; নিষ্ঠুরা ভগিনী;
শিশু সহোদর ভর্ত্তা; মন্ত্রী নরাধম;
সে কিসে জানিবে সখি! স্নেহ যে কি ধন?
পূরাইল আশা, যুড়াইল প্ৰাণ; সখি!—


  1. ক্লিওপেট্রার জনৈক অনুচর তাঁহাকে বসনরাশিতে বেষ্টিত করিয়া সিজারের নিমিত্ত উপঢৌকন বলিয়া তাঁহাকে গুপ্তভাবে সিজারের সমীপে লইয়া যায়।