পাতা:ক্লিওপেট্রা (নবীনচন্দ্র সেন).pdf/৪২

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

( ৩৪ )

সুষুপ্ত ভুজঙ্গ যেন, দুষ্ট প্রহারকে,
বিস্তারিয়া ফণা ক্রোধে ছুটিল দংশিতে!
‘কি? মিশরের ঈশ্বরী! টলেমি-দুহিতা!
ক্লিওপেট্রা আমি! রূপে বিশ্ব-বিমোহিনী!
যে রূপের তেজে সেই ভুবন-বিজয়ী
সিজারের তরবারি পড়িল খসিয়া!
সামান্য গুঞ্জিকা তার, সে রূপ-রতন
এণ্টনি ঠেলিল পায়ে?’ তীরের মতন
বসিনু শয্যায়; কিন্তু দুর্ব্বল শরীর
দুরূহ যন্ত্রণা, চিন্তা সহিতে না পারি,
ভুজঙ্গে দংশিত যেন, পড়িল ঢলিয়া
শয্যার উপরে পুনঃ। মধুরে তখন
বহিল শীতল ‘নীল’-নীরজ অনিল।
কোমল পরশে ধীরে হইল সঞ্চার
অৰ্দ্ধ নিদ্রা, অৰ্দ্ধ মূর্চ্ছা, ক্লান্ত কলেবরে।
 দেখিনু স্বপন, সখি! কি যে দেখিলাম,
এখনো স্মরিতে কেশ হয় কণ্টকিত।
দেখিনু শার্দ্দূল এক,—ভীষণ-আকৃতি!—
নিবিড় অরণ্যে মম ধাইছে পশ্চাতে,
বিস্তারিয়া মুখ। ‘ত্রাহি ত্ৰাহি’—বলি আমি