পাতা:খুন না চুরি? - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১২

দারোগার দপ্তর, ১৯৩ সংখ্যা।


লাগিল। যখন আমরা পদ্মপুকুরের ধারে গিয়আ উপস্থিত হই, দেখিলাম, এক বুড়ী যেন আমাদেরই দিকে আসিতেছে। কাছে আসিলে দেখিলাম, সে আমাদেরই দিকে কট্‌মট করিয়া চাহিয়া রহিয়াছে। চারি চক্ষু মিলিত হইবা মাত্র বুড়ী এক গাল হাসিয়া আমাদের নিকটে আসিল এবং নিমেষ মধ্যে দুই হাতে দুইটী জবা বাহির করিয়া আমাদের উভয়ের নাসিকার নিকট ধরিয়া বলিল,—“দেখ দেখি, জবায় কেমন গোলাপ-গন্ধ? আর কখন এমন জবা দেখেছ কি?

 “সত্যসত্যই গোলাপের গন্ধ পাইলাম, জবাফুলে গোলাপ-গন্ধ পাইয়া কেমন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িলাম। তখন উভয়েই সমস্ত কথা ভুলিয়া গেলাম। রূপসীর বিবাহের কথা ভুলিলাম, কোথায় যাইতেছিলাম ভুলিলাম, বাড়ী ভুলিলাম, এমন কি, আপনাদের অস্তিত্ব পর্য্যন্ত ভুলিলাম। রহিল কেবল সেই বৃদ্ধা। আমরা তাহার হাতের খেলনা স্বরূপ হইলাম। সে আমাদিগকে যাহা বলিতে লাগিল, আমরা অনায়াসে তাহা করিতে লাগিলাম। প্রথমে সে আমাদিগকে কিছুদুরে লইয়া গেল। সেখানে একখানি গাড়ী ছিল। আমরা তিনজনে গাড়ীতে উঠিলাম। কতক্ষণ পরে বনের ভিতর একটা ভাঙ্গা বাড়ীর দরজায় আসিয়া গাড়ী থামিয়া গেল। আমরা সকলেই গাড়ী হইতে নামিয়া সেই বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করিলাম। দেখিলাম, একটা প্রকাণ্ড ঘরের মধ্যে তিনজন সন্ন্যাসী একদৃষ্টে সম্মুখের প্রজ্জ্বলিত অগ্নির দিকে চাহিয়া রহিয়াছে। সন্ন্যাসী তিনজনের মধ্যে একজনকে দেখিতে অতি ভয়ানক, অপর দুইজনকে তাহার শিষ্য বলিয়াই বোধ হইল।

 “আমাদের পায়ের শব্দে সেই ভয়ানক সন্ন্যাসী উপরদিকে