পাতা:খুন না চুরি? - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৬

দারোগার দপ্তর, ১৯৩ সংখ্যা।


 আ। কোচমানকে চেন?

 গৌ। দেখ্‌লে চিনতে পারি।

 আ। গাড়ীখানা কোথাকার?

 গৌরী বিরক্ত হইয়া বলিল, “সে কথা আমি কি জানি?”

 গৌরীকে আর কোন কথা জিজ্ঞাসা করিলাম না। ভাবিলাম, তাহার দ্বারা আমার কোন সাহায্য হইবে না। পদ্মপুকুর আমার জানা ছিল। সেখান হইতে কিছুদূরে আজ কাল যেখানে জগু বাবুর বাজার সেখানে একটা ঠিকা গাড়ীর আস্তাবলও ছিল। সেই আস্তাবলে গিয়া সন্ধান লইবার ইচ্ছা হইল।

 আমি তখন লাল সিংকে আশ্বাস দিয়া তাঁহার নিকট বিদায় লইলাম এবং শোভন সিং এর বাটী হইতে বাহির হইবার উদ্যোগ কারতেছি, এমন সময়ে শোভন সিং কাঁদিতে কাঁদিতে আমার কাছে আসিয়া বলিলেন, “আমি ধনে প্রাণে মারা গেলাম। এই দুঃসময়ে লাল সিং আমাকে অন্যায় করিয়া যৎপরোনাস্তি অপমান করিতেছে। কিন্ত সে যাহাই হউক, আপনি আমার একটী উপকার করুন—যে ব্যাক্ত রূপসীকে খুন করিয়াছে তাহাকে ফাঁসী দিন। এখন আমার বেশ মনে পড়িতেছে যে, আমার সেই পুর্ব্বশত্রুই রূপসীকে খুন করিয়া তাহার গাত্রের অলঙ্কারগুলি আত্মসাৎ করিয়াছে। কিন্তু সে আপনাদিগের হস্ত হইতে পলায়ন করিতে পারিবে না, আপনাদের চক্ষে ধূলি দিতে পারিবে না। আজই হউক বা কালই হউক, সে নিশ্চয়ই ধরা পড়িবে। আপনি তাহাকে ফাঁসী দিয়া আমার অন্তরের জ্বালা নিবারণ করুন।” এই বলিয়া চিৎকার করিয়া রোদন করিতে লাগিলেন। অনেক সান্ত্বনার পর তিনি কিছু সুস্থ হইলে আমি সেখান হইতে বাহির হইলাম।