প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রগতিসংহার ԵԳ> পড়ায় সরীতি তাকে এগিয়ে থাকত, মুখস্থ বিদ্যেয় সে ছিল ওস্তাদ। কিন্তু পাঠ্যের বাইরে ছিল নীহারের প্রচুর পড়াশনা। সরীতি একেবারে প্রায় কাঁদো-কাঁদো হয়ে ছটে গোবিন্দবাবরে ঘরে গিয়ে বললে, “রাস্তায় ঘাটে এরকম সম্ভাষণ আমার সহ্য হয় না।” নীহার বললে, “আমার অন্যায় হয়েছে। কাল থেকে ওকে বলব মসীপঞ্জিতবর্ণা', কিন্তু সেটা কি বড় বেশি রিয়ালিস্টিক হবে না।” সরীতি প্রায় কাঁদতে কাঁদতে ছুটে চলে গেল। নীহারের চরিত্রে একটা নিরেট নিষ্ঠুরতা ছিল। যথোপর্যন্ত ঘষে দিয়ে তবে সেটাকে শান্ত করা যেত। এ কথা সবাই জানে । একদিন নীহার জাপানি খেলনা— কটকেটে-আওয়াজ-করা কাঠের ব্যাঙ দিয়ে ছেলেদের পকেট ভতি করে আনলে। ঠিক যে সময়ে প্লেটোর দাশনিকতত্ত্ব ব্যাখ্যা করবার পালা এল—সমস্ত ক্লাসে কটকট কটকট শব্দ পড়ে গেল। শব্দটা যে কোথা থেকে হচ্ছে তাও পণ্ট বোঝা শক্ত। সেদিন কটকটে ব্যাঙের শব্দে পেলটোর কন্ঠ একেবারে ডুবে গেল। শেষকালে খানাতল্লাসি করে দেখা গেল, দশটা কাঠের ব্যাঙ সরীতির ডেস্কের ভিতরে। সে চীৎকার করে বলে উঠল, “এ কখনো আমার নয়। অন্যরা কেউ আমার ডেকে দন্টমি করে ভরে রেখেছে।” ছেলেরা মহা তেরিয়া হয়ে বলে উঠল, “আমাদের উপর এ রকম অন্যায় দোষ দিলে আমরা সইতে পারব না। এ রকম ছেলেমানষি খেলবার শখ কখনো পরষদের হতেই পারে না। এ-সমস্ত মেয়েদেরই খকির ধর্ম।” কিছুক্ষণ ক্লাসঘর নীরব। তারপরে হঠাৎ অপর কোণ থেকে অদ্ভুত শব্দ উঠল, একসঙ্গে সব ছেলেরা পা ঘষতে শুরু করেছে সিমেন্টের উপর। এতগুলো জাতো ঘষার শব্দে একটা উৎকট কনসাটের সন্টি হল। ক্রমশ মাত্রা ছাড়িয়ে গেল, সরীতির পক্ষে আর চুপ করে বসে থাকা চলল না। কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে রইল, এক সময়ে হঠাৎ দড়াম করে একটা শব্দ হওয়ার পর ছেলেরা উঃ হাঃ শব্দে সানাইয়ের আওয়াজ নকল করতে লাগল। তখন সরীতি বলে উঠল, “সার, অনুগ্রহ করে ওদের গোলমাল করতে বারণ করবেন কি। আমরা এখানে পড়তে এসেছি, কিন্তু সংগীতচর্চার জায়গা এটা নয় । যদি কারও ক্লাস করতে ইচ্ছে না হয়, তবে ক্লাস ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।” সঙ্গে সঙ্গে চার দিক থেকে রব উঠল শেম শেম এবং লেফট রাইট মার্চ করতে করতে ছেলেরা বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। সেদিনকার মতো ক্লাস আর জমল না। মেয়েরা যখন ক্লাস থেকে বেরিয়ে কমনরুমে বসেছে, একটি পিয়ন এসে খবর দিল—সরীতিকে সেক্রেটারি বাব ডেকেছেন। মেয়েরা সব কানাকানি করতে লাগল। সরীতি সেক্রেটারির ঘরে ঢুকে দেখলে সেখানে তাদের সেদিনকার প্রফেসার বসে আছেন আর নীহার পাশে দাঁড়িয়ে। সেক্রেটারি সরীতিকে বললেন, "ছেলেরা, নালিশ করেছে তোমার আজকের ব্যবহারে তারা অপমান বোধ করেছে। তোমার দিক থেকে যদি কিছু বলবার থাকে তো বলো।” সরীতি বললে, “সার, ওরা যে প্রফেসারের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করুল,