প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রগতিসংহার もfa● বাবে। কিন্তু তার কোনো চিহ্ন মিলল না, তখন সলিলার উপরে বিষম রাগ হল। বিশেষত যখন সে শনেল সলিলা তার দাসীকে দিয়ে গিয়েছে একশো টাকা, তখন সে সলিলাকে ধিক্কার দিয়ে বলে উঠল— কী রকম নীচতা। ইংরেজিতে যাকে বলে মীননেস । যে মেয়েকে নীহার স্তব করে বলত “জগন্ধাত্রী, পরষে-পালনের পালা তিনি সাঙ্গ করে নীহারকে নৈরাশ্যের ধাক্কা দিয়ে চলে গেলেন। দাজিলিঙের খরচ আর তো চলে না, আবার নীহার ফিরে এল কলকাতার মেসে। ছেলেরা একদফা খাব হাসাহাসি করে নিলে। নীহারের তাতে গায়ে বাজত না। ওর আশা ছিল দ্বিতীয় আর-একটি জগন্ধাত্রী জটে যাবে। একজন বিখ্যাত উড়িয়া গণৎকার তাকে গনে বলেছিল কোনো বড়ো ধনী মেয়ের প্রসাদ সে লাভ করবে। সেই গণনাফলের দিকে উৎসকেচিত্তে সে তাকিয়ে রইল। জগদ্ধাত্রী কোন রাস্তা দিয়ে যে এসে পড়েন তা তো বলা যায় না। অত্যন্ত টানাটানির দশায় পড়ে গেল। দাজিলিঙ-ফেরত নীহারকে হঠাৎ কলেজে দেখে সরীতিও আশ্চৰ্য হয়ে গেল— বললে, “আপনি হিমালয় থেকে ফিরলেন কবে ।” নীহার হেসে বললে, “ওগো সীমন্তিনী, কিছ হাওয়া খেয়ে আসা গেল। কালিদাস বলেছেন : মন্দাকিনীনিবারশীকরাণাং বোঢ়া মহেতু কপিতদেবদারঃ। ঐ দেবদারর চেয়ে ঢের বেশি কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের রোগা হাড়, এই দেখো-না কবল জড়িয়ে ভুটিয়া সেজে এসেছি।” সরীতি হেসে বললে, “কেন, সাজ তো মন্দ হয় নি আর আপনার চেহারাও তো দেখাচ্ছে ভালো, ভুটিয়া বকুর সাজসজাতে আপনাকে ভালো মানিয়েছে।” নীহার বললে, “খুশি হলাম, এখন তো আর শীতের থেকে রক্ষা পাবার কথা ভাবতে হবে না, এখন কী দিয়ে তোমাদের চোখ ভোলাব এইটেই হচ্ছে সমস্যা— সেটা আরো শক্ত কথা।” সরীতি। তা চোখ ভোলাবার দরকার কী। পরষ মানুষের সহায়তা করে তার বিদ্যে, তুমি জান তো তোমার মধ্যে তার অভাব নেই। নীহার। এইটে তোমাদের ভুল। নিউটন বলেছিলেন তিনি জ্ঞানসমুদের নড়ি । কুড়িয়েছেন, আমি তো কেবলমাত্র বালর কণা সংগ্রহ করেছি। সরীতি। বাস রে! এবার পাহাড় থেকে দেখছি তুমি অনেকখানি বিনয় সংগ্ৰহ করে এনেছ, এ তো তোমার কখনো ছিল না । নীহার। দেখো, এ শিক্ষা আমার স্বয়ং কালিদাসের কাছ থেকে, যিনি বলেছেন : প্রাংশলেভো ফলে লোভাদদেবাহমরিব বামনঃ। সরীতি। এই-সব সংস্কৃত শেলাকের জালায় হাঁপিয়ে উঠলাম, একটা বিশৰে বাংলা বলো । এর মধ্যে আশ্চর্যের কথা এই যে, সলিলার মৃত্যুর উল্লেখমাত্রও সে করল না । এ দিকে ক্লাসের ঘন্টার শব্দে দুজনকেই দ্রুত চলে যেতে হল, কিন্তু সংস্কৃত লাগল। সে দেখেছে আজকাল নীহারের ঠাট্টা আর সংঙ্গকৃত খলাক আওড়ানো অন্য মেয়েরা খুব পছন্দ করে। তারা তাই নিয়ে ওকে প্রশংসা করে, তাই সেও বকেছে