প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রগতিসংহার ૪૧હ দেখলে অন্য মেয়েরা সব তাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ বা ওকে চায়ে নিমন্ত্রণ করছে, কেউ বা বাঁধানো টেনিসন এক সেট লুকিয়ে ওর ডেকের মধ্যে উপহার রেখে বাচ্ছে। কিন্তু সরীতি পড়ছে পিছিয়ে। একজন মেয়ে নীহারকে যখন নিজের হাতের কাজ-করা সন্দের একটি টেবিল-ঢাকা দিলে, তখন সরীতির প্রথম মনে বি"ধল, ভাবল, “আমি যদি এই-সব মেয়েলি শিল্পকাবের চর্চা করতাম । সে যে কোনোদিন সচের মখে সতো পরায় নি, কেবল বই পড়েছে। সেই তার পাণ্ডিত্যের অহংকার আজ তার কাছে খাটো হয়ে যেতে লাগল। কিছ-একটা করতে পারতুম যেটাতে নীহারের চোখ ভুলতে পারত’—সে আর হয় না। অন্য মেয়েরা তাকে নিয়ে কত সহজে সামাজিকতা করে। সরেীতির খবে ইচ্ছে সেও তার মধ্যে ভরতি হতে नाव्रङ र्याम, किन्ट्र किङ्दष्ठद्दे थान थाग्न ना । ठाब्र फल एल ७ट्टे-ऊाव्र स्राज्रनिळवमन অন্য মেয়েদের চেয়েও আরও যেন জোর পেয়ে উঠল। সে নীহারের জন্য কোনো অছিলায় নিজের কোনো একটা ক্ষতি করতে পারলে কৃতাৰ্থ হত। একেবারে প্রগতিসংঘের পালের হাওয়া বদলে গেল । f অন্য মেয়েরা ক্ৰমে নিয়মিতভাবে তাদের পড়াশনায় লেগে গেল, কিন্তু সরীতি তা পেরে উঠল না। একদিন ডেকের উপর থেকে দৈবাৎ নীহারের ফাউনটেনপেনটি মেঝের উপর গড়িয়ে পড়েছিল, সবাগ্রে সেটা সে তুলে ওকে দিলে। এর চেয়ে অবনতি সরীতির আর কোনোদিন হয় নি। একদিন নীহার বস্তৃতায় বলেছিল— তার মধ্যে ফরাসী নাট্যকারের কোটেশন ছিল— ‘সব সন্দের জিনিসের একটা অবগঠিন আছে, তার উপরে পরষদটির হাওয়া লাগলে তার সোঁকুমাব নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের দেশে মেয়েরা যে পারতপক্ষে পরষদের কাছে দেখা দিত না, তার প্রধান কারণ এই যে, দেখা দেওয়ার বারা মেয়েদের মল্যে কমে যায়। তাদের কমনীয়তার উপরে দাগ পড়তে থাকে। অন্য মেয়েরা এই কথা নিয়ে বিরখে তকে উত্তেজিত হয়ে উঠল। তারা বললে, এমনতরো করে ঢেকেঢকে কমনীয়তা রক্ষা করবার চেষ্টা করা অত্যন্ত বিড়ম্ববনা। সংসারে পর্ষপশ কী সন্ত্রী, কী পরিষে, সকলেরই পক্ষে সমান আবশ্যক। আশ্চর্য এই, আর কেউ নয়, স্বয়ং সরেীতি উঠে নীহারের কথার সমর্থন করলে। এই এক সবনের ধাক্কায় তার চালচলন সম্পণে বদলে যাবার জো হল। এখন সে পরামশ নিতে যায় নীহারের কাছে। যখন শেকসপিয়রের নাটক সিনেমাতে দেখানো হয়, তখন তাও কি মেয়েরা কোনো পরষ অভিভাবকের সঙ্গে গিয়ে দেখে আসতে পারে না। নীহার কড়া হঝুেম জারি করলে— তাও না। কোনোক্রমে নিয়মের ব্যতিক্রম হলে নিয়ম আর রক্ষা করা যায় না। প্রত্যেকবারেই সরীতি ভালো কিছু দেখবার থাকলে সিনেমাতে যেত। এখন তার কী হল ! এত বড়ো আত্মত্যাগ তো কল্পনা করা যায় না, এমন-কি আজকালকার দিনে যে সামাজিক নিমন্ত্রণে স্বীপরাষের এক সঙ্গে খাওয়াদাওয়া চলত, সেখানে সে যাওয়া ছেড়ে দিলে। সনাতনীরা খুব তার প্রশংসা করতে লাগল। প্রগতিসংঘ থেকে সে নিজেই আপনার নাম কাটিয়ে নিলে। .** সরীতি চাকরি নেবে, নীহারের অনুমতি চাইল-স্কুলে পর্য ছাত্র খব ছোটো বয়সের হলেও তাদের পড়ানো চলে কি না।