প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ԵԳՆ গল্পগুচ্ছ নীহার বললে, না, তাও চলে না। তার ফল হল সে অর্ধেক মাইনে স্বীকার করে মাস্টারি নিয়ে বললে, তার বাকি বেতন থেকে ছেলেদের আলাদা পড়াবার লোক রাখা হোক। স্কুলের সেক্রেটারিবাব অবাক। সরীতির মনের টান ক্রমশ দুঃসহ হয়ে উঠতে লাগল। এক সময়ে কোনো রকম করে আভাস দিয়েছিল, তাদের বিয়ে হতে পারে কি না। একদিন যে সমাজের নিয়মকে সরীতি মানত না, সেই সমাজের নিয়ম অনুসারে শনতে পেল ওদের বিয়ে হতে পারে না কোনোমতেই। অথচ এই পরিষের আনুগত্য রক্ষা করে চিরকাল মাথা নিচু করে চলতে পারে তাতে অপরাধ নেই, কেননা বিধাতার সেই বিধান। প্রায়ই সে শনতে পেত— নীহারের অবস্থা ভালো নয়, পড়বার বই তাকে ধার করে পড়তে হয়। তখন সরেীতি নিজের জলপানি থেকে ওকে যথেস্ট সাহায্য করতে লাগল। নীহারের তাতে কোনো লজ্জা ছিল না। মেয়েদের কাছ থেকে পরষদের যেন আঘ্য নেবার অধিকার আছে। অথচ তার বিদ্যার অভিমানের অন্ত ছিল না। একবার একটি কলেজে বাংলা অধ্যাপকের পদ খালি ছিল। সরীতির অনুরোধে নীহারকে সে পদে গ্রহণ করবার প্রস্তাবে অনকেল আলোচনা চলছিল। তাতে নীহারের নাম নিয়ে কমিটিতে এই আলোচনায় তার অহংকারে ঘা লাগল। সরীতি নীহারকে বললে, “এ তোমার অন্যায় অভিমান। স্বয়ং ভাইসরয় নিযন্তে করবার সময়েও কাউন্সিলের মেম্ববারদের মধ্যে তা নিয়ে কথাবাতা চলে।” নীহার বললে, “তা হতে পারে, কিন্তু আমাকে যেখানে গ্রহণ করবে সেখানে বিনা তকেই গ্রহণ করবে। এ না হলে আমার মান বাঁচবে না। আমি বাংলা ভাষায় এম. এ.তে সব-প্রথম পদবী পেয়েছি। আমি আমন করে কমিটি থেকে ঝাঁট দিয়ে নেওয়া পদ নিতে পারব না।” এ পদ যদি নিত তা হলে সরীতির কাছ থেকে অর্থসাহায্যের প্রয়োজন চলে যেত নীহারের। পদকে সে অগ্রাহ্য করলে, কিন্তু এই প্রয়োজনকে না। সরীতির জলখাবার প্রায় বন্ধ হয়ে এল। বাড়ির লোকে ওর ব্যবহারে এবং চেহারায় অত্যন্ত উদবিগ্ন হয়ে উঠল। ছেলেবেলা থেকেই ওর শরীর ভালো নয়, তার উপরে এই কন্ট করা— এ তপস্যা কার জন্য সে কথা যখন তারা ধরতে পারলে তখন তারা নীহারকে গিয়ে বললে, “হয় তুমি একে বিবাহ করো, নয় এর সঙ্গ ত্যাগ করো।” নীহার বললে, “বিবাহ করা তো চলবেই না— আর ত্যাগের কথা আমাকে বলছেন কেন, সঙ্গ ইচ্ছে করলেই তো তিনি ত্যাগ করতে পারেন, আমার তাতে কিছুমাত্র আপত্তি নেই।” l সরীতি সে কথা জানত। সে জানত নীহারের কাছে তার কোনো মলাই নেই, নিজের সুবিধাটুকু ছাড়া। সেই সুবিধাটুকু বন্ধ হলে তাকে অনায়াসে পথের কুকুরের মতো খেদিয়ে দিতে পারে। এ জেনেও যত রকমে পারে সবিধে দিয়ে, বই কিনে দিয়ে, নতুন খন্দরের থান তাকে উপহার দিয়ে, যেমন করে পারে তাকে এই সংবিধার সবাথবন্ধনে বেধে রাখলে। অন্য গতি ছিল না বলে এই অসন্মান সরতি স্বীকার করে নিলে । এক সময়ে মফস্বলে বেশি মাইনের প্রিসিপালের পদ পেয়েছিল। তখন তার