প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে, অবজ্ঞার অস্তিাকুড়ের পাশে আমাকে ফেলে রেখে দিয়েছে, সে ধমের মধ্যে আমি তো দেবতার প্রসন্নতা কোনোদিন দেখতে পেলাম না। সেখানকার দেবতা আমাকে প্রতিদিন অপমানিত করেছে সে কথা আজও আমি ভুলতে পারি নে। আমি প্রথম ভালোবাসা পেলাম, বাপজান, তোমার ঘরে। জানতে পারলম হতভাগিনী মেয়েরও জীবনের মল্যে আছে। যে দেবতা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন সেই ভালোবাসার সম্মানের মধ্যে তাঁকেই আমি পুজো করি, তিনিই আমার দেবতা— তিনি হিন্দও নন, মসলমানও নন। তোমার মেজো ছেলে করিম, তাকে আমি মনের মধ্যে গ্রহণ করেছি— আমার ধমকিম ওরই সঙ্গে বাঁধা পড়েছে। তুমি মসলমান করে নাও আমাকে, তাতে আমার আপত্তি হবে না— আমার নাহয় দলই ধমাই থাকল।” এমনি করে চলল ওদের জীবনযাত্রা, ওদের পবেতন পরিজনদের সঙ্গে আর দেখা-সাক্ষাতের কোনো সম্পভাবনা রইল না। এ দিকে হবির খাঁ কমলা যে ওদের পরিবারের কেউ নয়, সে কথা ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা করলে— ওর নাম হল মেহেরজান। ইতিমধ্যে ওর কাকার দ্বিতীয় মেয়ের বিবাহের সময় এল। তার বন্দোবস্তও হল পবের মতো, আবার এল সেই বিপদ। পথের মধ্যে হৎকার দিয়ে এসে পড়ল সেই ডাকাতের দল। শিকার থেকে একবার তারা বঞ্চিত হয়েছিল সে দুঃখ তাদের ছিল, এবার তার শোধ নিতে চায়। কিন্তু তারই পিছন পিছন আর এক হনকার এল, “খবরদার !" “ঐরে, হবির খাঁর চেলারা এসে সব নস্ট করে দিলে।” কন্যাপক্ষরা যখন কন্যাকে পালকির মধ্যে ফেলে রেখে যে যেখানে পেল দৌড় মারতে চায় তখন তাদের মাঝখানে দেখা দিল হবির খাঁয়ের অধচন্দ্র-অাঁকা পতাকা -বাঁধা বশার ফলক। সেই বশ নিয়ে দাঁড়িয়েছে নিভয়ে একটি রমণী। সরলাকে তিনি বললেন, “বোন, তোর ভয় নেই। তোর জন্য আমি তাঁর আশ্রয় নিয়ে এসেছি যিনি সকলকে আশ্রয় দেন। যিনি কারও জাত বিচার করেন না।— “কাকা, প্রণাম তোমাকে। ভয় নেই, তোমার পা ছেবি না। এখন একে তোমার ঘরে নিয়ে যাও, একে কিছতে অপশ্য করে নি। কাকীকে বোলো অনেক দিন তাঁর অনিচ্ছক অন্নবস্ত্রে মানুষ হয়েছি, সে ঋণ যে আমি এমন করে আজ শধেতে পারব তা ভাবি নি। ওর জন্যে একটি রাঙা চেলী এনেছি, সে এই নাও, আর একটি কিংখাবের আসন। আমার বোন যদি কখনো দুঃখে পড়ে তবে মনে থাকে যেন তার মসলমান দিদি আছে, তাকে রক্ষা করবার জন্যে।" ২৪-২৫ জনে ১৯৪১ আষাঢ় ১৩৬২