প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


むし”bf গল্পগুচ্ছ থেকে পাঠানো অপসরীও সে নয়। সমস্ত যাগযজ্ঞ ধ্যানধারণা সমস্ত অতীত ভবিষ্যৎ আট বেধে গেল একটি ছোটো গলেপ। এই হল ভূমিকা। আমি হচ্ছি সেই মানুষ যার অদষ্ট ভীল-রমণীর মতো ঝাঁড়িতে প্রতিদিন সংগ্রহ করত কাঁচা পাকা বদরী ফল, একদিন হঠাৎ কুড়িয়ে পেয়েছিল গজমনস্তা, একটি ছোটো গল্প। সাহস করে লিখে ফেলব। কাজটা কঠিন। এতে হয়তো বাদ কিছর বা পাওয়া যাবে, কিন্তু পেট-ভরা ওজনের বস্তু মিলবে না। প্রথম পবর্ণ জীবনের প্রবহমান ঘোলা রঙের হ-য-ব-র-ল'র মধ্যে হঠাৎ যেখানে গল্পটা আপন রপে ধরে সদ্য দেখা দেয়, তার অনেক পাব থেকেই নায়ক-নায়িকারা আপন পরিচয়ের সত্ৰ গে'থে আসে। গল্পের গোড়ায় প্রাকগাপিক ইতিহাসের ধারা অনসরণ করতেই হয়। তাতে কিছু সময় নেবে। আমি যে কে, সে কথাটা পরিকার করে নিই। কিন্তু নামধাম ভাঁড়াতে হবে। নইলে চেনাশোনার মহলে গল্পের যাথাযথ্যের জবাবদিহি সামলাতে পারব না। এ কথা সবাই বোঝে না যে, ঠিকঠাক সত্য বলবার এক কায়দা আর তার চেয়েও বেশি সত্য বলবার ভঙ্গী আলাদা । কী নাম নেব তাই ভাবছি। রোম্যাপ্টিক নামকরণের বারা গোড়া থেকে গল্পটাকে বসন্তরাগে পঞ্চমসরে বাঁধতে চাই নে। নবীনমাধব নামটা বোধ হয় চলনসই। ওর শামলা রঙটা মেজে ফেলে গিলটি লাগালে ওটা হতে পারত নবারণ সেনগুপ্ত, কিন্তু খাঁটি শোনাত না। আমি ছিলাম বাংলাদেশের বিপ্লবীদলের একজন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহাকর্ষশক্তি আমাকে প্রায় টেনে নিয়ে গিয়েছিল আন্ডামানের তীর-বরাবর। নানা বাঁকা পথে সি. আই. ডি.’র ফসি এড়িয়ে প্রথমে আফগানিস্থান, তার পরে জাপান, তার পরে আমেরিকায় গিয়ে পেপাঁচেছিলম জাহাজ গোরার নানা কাজ নিয়ে। পববঙ্গীয় দজয় জেদ ছিল মজায়। একদিনও ভুলি নি যে ভারতবর্ষের হাতকড়ায় উখো ঘষতে হবে দিনরাত, যতদিন বেচে থাকি। কিন্তু এই সমুদ্রপারের কমপেশল হাড়-মোটা প্রাণঘন দেশে থাকতে থাকতে একটা কথা নিশ্চিত বুঝেছিলাম যে, আমরা যে প্রণালীতে বিপ্লবের পালা শরে করেছিলাম সে যেন আতশবাজিতে পটকা ছোঁড়ার মতো। তাতে নিজেদের পোড়াকপাল আরও পড়িয়েছে অনেকবার, কিন্তু ফটো করতে পারে নি ব্রিটিশ রাজপতাকা । আগমনের উপর পতঙ্গের অন্ধ আসক্তি। যখন সদপে ঝাঁপ দিয়ে পড়ছিলাম, তখন বুঝতে পারি নি সেটাতে ইতিহাসের যজ্ঞানল জালানো হচ্ছে না, জবালাচ্ছি নিজেদের খুব ছোটো ছোটো চিতানল। 啤 তার পরে স্বচক্ষে দেখলাম ররোপীয় মহাসমর। কী রকম টাকা ওড়াতে হয় ধলোর মতো, আর প্রাণ উড়িয়ে দেয় ধোঁয়ার মতো দাবানলের। মরবার জন্যে তৈরি হতে হয় সমস্ত দেশ একজোট হয়ে, মারবার জন্যে তৈরি হতে হয় দীর্ঘকাল বিজ্ঞানের দরহে দীক্ষা নিয়ে। এই যুগান্তরসাধিনী সবনাশাকে আমাদের খোড়ো