প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছোটো গল্প ૪૪:૦ ঘরের চণ্ডীমণ্ডপে প্রতিষ্ঠিত করব কোন দরোশায়! যথোচিত সমারোহে বড়ো রকমের আত্মহত্যা করবার আয়োজনও যে ঘরে নেই ; ঠিক করলাম ন্যাশনাল দগের গোড়া পাকা করতে হবে, যত সময়ই লাগকে। বাঁচতে যদি চাই, অদিম সন্টির হাত দখানায় গোটাদশেক নখ নিয়ে অচিড় মেরে লড়াই করা চলবে না। এ যুগে যন্ত্রের সঙ্গে দিতে হবে পাল্লা। হাতাহাতি করার তাল-ঠোকা পালোয়ানি সহজ, বিশবকমার চেলাগিরি সহজ নয়। পথ দীর্ঘ, সাধনা দরহে। দীক্ষা নিলাম যন্ত্রবিদ্যায়। আমেরিকায় ডেট্রয়েটে ফোডের মোটর-কারখানায় কোনোমতে ভতি হলাম। হাত পাকাচ্ছিলাম কিন্তু শিক্ষা এগছিল বলে মনে হয় নি। একদিন কী দরবদ্ধি ঘটল, মনে হল ফোড়কে যদি একটুখানি আভাস দিতে যাই যে নিজের সবাথসিদ্ধি আমার উদ্দেশ্য নয়, আমি চাই দেশকে বাঁচাতে, তা হলে ধনকুবের বুঝি বা খুশি হবে, এমন-কি দেবে আমার রাস্তা প্রশস্ত করে । অতি গভীরমখে ফোড বললে, “আমার নাম হেনরি ফোড, পরোনো পাকা ইংরেজি নাম। কিন্তু আমি জানি আমাদের ইংলনডের মামাতো ভাইরা অকেজো, ইনএফাঁসিয়েন্ট। তাদের আমি কেজো করে তুলব। এই আমার সংকল্প। অর্থাৎ অকেজো টাকাওয়ালাকে কেজো করবে কেজো টাকাওয়ালা সবগোত্রের লাইন বাঁচিয়ে, আমরা থাকব চিরকাল কেজোদের হাতে কাদার পিণ্ড। তারা পর্তুল বানাবে। এই দুঃখেই গিয়েছিলম একদিন সোভিয়েটের দলে ভিড়তে। তারা আর যাই করকে কোনো নিরপোয় মানব-জাতকে নিয়ে পতুলনাচের অথকরী ব্যাবসা করে না। কিছুদিন চাকা চালিয়ে শেষকালে বুঝলাম যন্ত্রবিদ্যাশিক্ষার আরও গোড়ায় যেতে হবে। শরতে দরকার যন্মনিমাণের মালমসলা জোগাড় করার বিদ্যে। কৃতকমাদের জন্যেই ধরণী দগম পাতালপরীতে জমা করে রেখেছেন কঠিন খনিজ পিন্ড। সেইগুলো হস্তগত করে তারাই দিগ্বিজয় করেছে যারা বাহাদর জাত। আর মাদেব চিরকালই অদ্যভক্ষ্য ধনরেগণ তাদের জন্যেই বাঁধা বরাদ্দ উপরিসন্তরের ফলফসল শাকসবজি— হাড় বেরিয়ে গেল পাঁজরের, পেটে পিঠে গেল এক হয়ে। লেগে গেলাম খনিজবিদ্যায়। এ কথা ভুলি নি যে ফোড বলেছেন ইংরেজ জাত অকেজো । তার প্রমাণ আছে ভারতবষে । একদিন ওরা হাত লাগিয়েছিল নীলের চাষে, চায়ের চাষে আর-একদিন । সিভিলিয়ান-দল দফতরখানায় ‘ল অ্যান্ড অডার'এর জাতা চালিয়ে দেশের অস্থিমজ্জা ছাতু করে বানিয়ে তুলেছে বস্তাবন্দী ভালোমানষি, অতি মোলায়েম। সামান্য কিছল কয়লার আকর ছাড়া ভারতের অন্তভাণ্ডারের সম্পদ উদঘাটিত করতে উপেক্ষা করেছে কিংবা অক্ষমতা দেখিয়েছে। নিংড়েছে বসে বসে পাটের চাষীর রক্ত। জামশেদজি টাটাকে সেলাম করেছি সমুদ্রের ওপার থেকে । ঠিক করেছি আমার কাজ পটকা ছোঁড়া নয়। সিদ্ধ কাটতে যাব পাতালপরীর পাষাণপ্রাচীরে। মায়ের-অচল-ধরা খোকাদের দলে মিশে মা মা ধৰনিতে মন্তর আওড়াব না ; আর দেশের যত অভুক্ত অক্ষম র্যগণ অশিক্ষিত কাল্পনিক-ভয়েদিনরাত-কম্পমান দরিদ্রকে সহজ ভাষায় দরিদ্র বলেই জানব— ‘দরিদ্রনারায়ণ’ বলে একটা বুলি বানিয়ে তাদের বিদ্রপ করব না। প্রথম বয়সে একবার বচনের পন্তুলগড়া খেলা অনেক খেলেছি। কবি-কারিগরদের কুমোরটুলিতে স্বদেশের যে সস্তা রাঙতা-লাগানো প্রতিমা গড়া হয় তার সামনে গদগদ ভাষায় অনেক আশ্রজেল ফেলেছি।