প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૧૪ક গল্পগুচ্ছ আগ্রন্থেয় প্রমাণ করবার জন্যে পুজোর ঘরে অভীক এমন-কিছু অনাচার করেছিল যাতে ওর বাপ আগন হয়ে বলে উঠলেন, বেরো আমার ঘর থেকে, তোর মাখ দেখব না। এতবড়ো ক্ষিপ্রবেগের কঠোরতা নিয়মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের চরিত্রেই সম্ভব। ছেলে মাকে গিয়ে বললে, “মা, দেবতাকে অনেক কাল ছেড়েছি, এমন অবস্থার আমাকে দেবতার ছাড়াটা নেহাত বাহুল্য। কিন্তু জানি বেড়ার ফাঁকের মধ্য দিয়ে হাত বাড়ালে তোমার প্রসাদ মিলবেই। ওইখানে কোনো দেবতার দেবতাগিরি খাটে না, তা যত বড়ো জাগ্রত হোন-না তিনি।” মা চোখের জল মাছতে মুছতে অচল থেকে খালে ওকে একখানি নোট দিতে গেলেন। ও বললে, “ওই নোটখানায় যখন আমার অত্যন্ত বেশি দরকার আর থাক.ে না তখনই তোমার হাত থেকে নেব। অলক্ষীর সঙ্গে কারবার করতে জোর লাগে, ব্যাঙ্কনোট হাতে নিয়ে তাল ঠোকা যায় না।” * অভাঁকের সম্বন্ধে আরও দটাে-একটা কথা বলতে হবে। জীবনে ওর 'দী উলটো জাতের শখ ছিল, এক কলকারখানা জোড়াতাড়া দেওয়া, আর-এক ছবি অ’ । ওর বাপের ছিল তিনখানা মোটরগাড়ি, তাঁর মফস্বল-অভিযানের বাহন। যক্ষ" ওর হাতেখড়ি সেইগুলো নিয়ে। তা ছাড়া তাঁর ক্লায়েন্টের ছিল মোটরের কারখানা, সেইখানে ও শখ করে বেগার খেটেছে অনেক দিন । অভীক ছবি অাঁকা শিখতে গিয়েছিল সরকারী আর্টসকুলে। কিছুকালের মধ্যেই ওর এই বিশ্বাস দঢ় হল যে, আর বেশিদিন শিখলে ওর হাত হবে কলে-তৈরি, ওর মগজ হবে ছাঁচে-ঢালা। ও আর্টিস্ট, সেই কথাটা প্রমাণ করতে লাগল নিজের.ঙ্গোর আওয়াজে। প্রদশনী বের করলে ছবির, কাগজের বিজ্ঞাপনে তার পরিচয় রেল আধনিক ভারতের সবশ্রেষ্ঠ আর্টিস্ট অভীককুমার, বাঙালি টিশিয়ান। ও যতই ‘ লোকের ফাঁকা মনের গুহায়, তারা অভিভূত হয়ে গেল। শিষ্য এবং তার চেয়ে বেশি-সংখ্যক শিষ্যা জমল ওর পরিমণ্ডলীতে। তারা বিরধেদলকে আখ্যা দিল ফিলিস্টাইন। বলল বজোয়া। অবশেষে দুদিনের সময় অভীক আবিকার করলে যে তার ধনী পিতার তহবিলের কেন্দ্র থেকে আটিস্টের নামের পরে যে রজতচ্ছটা বিচ্ছুরিত হত তারই দীপ্তিতে ছিল তার খ্যাতির অনেকখানি উজ্জলতা। সঙ্গে সঙ্গে সে আর-একটি তত্ত্ব আবিস্কার করেছিল যে অর্থভাগ্যের বঞ্চনা উপলক্ষ করে মেয়েদের নিষ্ঠায় কোনো ইতরবিশেষ ঘটে নি। উপাসিকারা শেষ পর্যন্ত দুই চক্ষ বিস্ফারিত করে উচ্চমধরে কণ্ঠে তাকে বলছে আর্টিস্ট’। কেবল নিজেদের মধ্যে পরপরকে সন্দেহ করেছে যে স্বয়ং তারা দই-একজন ছাড়া বাকি সবাই আটের বোঝে না কিছই, ভণ্ডামি করে, গা জলে যায় ! i অভাঁকের জীবনে এর পরবতী ইতিহাস সদাঁধ এবং অপষ্ট। ময়লা টপি আর তেলঙ্কালীমাখা নীলরঙের জামা-ইজের পরে বারনকোম্পানির কারখানায় প্রথমে মিস্থিগিরি ও পরে হেডমিন্দ্রির কাজ পর্যন্ত চালিয়ে দিয়েছে। মসলমান