প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছোটো গলপ SOS পড়েন না। কচ ও দেবযানী বলে একটা কবিতা আছে। তার শেষ কথাটা এই ৷ মেয়েদের ব্রত পর্ষকে বাঁধা আর প্রযের ব্রত মেয়ের বাঁধন কাটিয়ে বগলোকের রাস্তা বানানো। কচ বেরিয়ে পড়েছিল দেবযানীর অনুরোধ এড়িয়ে, আর আপনি মায়ের অননয়—একই কথা।” আমি বললাম, “দেখন, আমি হয়তো ভুল করেছিলাম। মেয়েদের নিয়ে পরেষের কাজ যদি না চলে, তা হলে মেয়েদের সন্টি কেন।” অচিরা বললে, “বারো-আনার চলে মেয়েরা তাদের জন্যেই। কিন্তু বাকি মাইনরিটি, যারা সব-কিছু পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধানে বেরিয়েছে, তাদের চলে না। সব-পেরোবার মানুষকে মেয়েরা যেন চোখের জল ফেলে রাস্তা ছেড়ে দেয়। যে দগম পথে মেয়ে-পর্বষের চিরকালের বন্দ্ব সেখানে পরষেরা হোক জয়ী। যে মেয়েরা মেয়েলি, প্রকৃতির বিধানে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি, তারা ছেলে মানষে করে, সেবা করে ঘরের লোকের। যে পরষ যথার্থ পরবে, তাদের সংখ্যা খুব কম; তারা অভিব্যক্তির শেষ কোঠায়। মাথা তুলছে দটি-একটি করে। মেয়েরা তাদের ভয় পায়, বুঝতে পারে না, টেনে আনতে চায় নিজের অধিকারের গণ্ডিতে। এই তত্ত্ব শুনেছি আমার দাদর কাছে – “দাদ, তোমার পড়া রেখে আমার কথা শোনো। মনে আছে ?—তুমি একদিন বলেছিলে, পরষে যেখানে অসাধারণ সেখানে সে নিরতিশয় একলা, নিদারণে তার নিঃসঙ্গতা, কেননা তাকে যেতে হয় যেখানে কেউ পৌছয় নি। আমার ডায়ারিতে লেখা আছে।” অধ্যাপক মনে করবার চেষ্টা করে বললেন, “বলেছিলাম নাকি। হয়তো বলেছিলাম।” অচিরা খাব বড়ো কথাও কয় হাসির ছলে, আজ সে অত্যন্ত গভীর। খানিক বাদে আবার সে বললে, “দেবযানী কচকে কী অভিসম্পাত দিয়েছিল জানেন ?” "ן חה" “বলেছিল, তোমার সাধনায় পাওয়া বিদ্যা তোমার নিজের ব্যবহারে লাগাতে পারবে না। যদি এই অভিসম্প্রপাত আজ দিত দেবতা য়রোপকে, তা হলে য়ারোপ বেচে যেত। বিশ্বের জিনিসকে নিজের মাপে ছোটো করেই ওখানকার মানুষ মরছে লোভের তাড়ায় — সত্যি কি না বলো দাদ!" “খবে সত্যি, কিন্তু এত কথা কী করে ভাবলে।” “নিজের বন্ধিতে না। একটা তোমার মহদগণ আছে, কখন কাকে কী যে বল, ভোলানাথ তুমি সব ভুলে যাও। তাই চোরাই মালের উপর নিজের ছাপ লাগিয়ে দিতে ভাবনা থাকে না।” আমি বললাম, “নিজের ছাপ যদি লাগে তা হলেই অপরাধ খণ্ডন হয়।” “জানেন, নবীনবাব, ওঁর কত ছাত্র ওঁর কত মাখের কথা খাতায় টমকে নিয়ে বই লিখে নাম করেছে? উনি তাই পড়ে আশ্চৰ্য হয়ে প্রশংসা করেছেন, বকতেই পারেন নি নিজের প্রশংসা নিজেই করছেন। কোন কথা আমার কথা আর কোন কথা ওঁর নিজের, সে ওঁর মনে থাকে না—লোকের সামনে আমাকে বলে বসেন