প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


షిOఫి গল্পগুচ্ছ ওরিজিনাল, তখন সেটার প্রতিবাদ করার মতো মনের জোর পাওয়া যায় না। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি নবীনবাবরেও এ ভ্রম ঘটছে।— কী করব বলো, আমি তো কোটেশনমাকৰ্ণ দিয়ে দিয়ে কথা বলতে পারি নে।” “নবীনবাবরে এ ভ্রম কোনোদিন ঘচেবে না।” অচিরা বললে, “দাদ একদিন আমাদের কলেজ-ক্লাসে কচ ও দেবযানীর ব্যাখ্যা করছিলেন। কচ হচ্ছে পরাষের প্রতীক, আর দেবযানী মেয়ের। সেই দিন নিমমি পরষের মহৎ গৌরব মনে-মনে মেনেছি, মনখে ককখনো স্বীকার করি নে।” অধ্যাপক বললেন, “কিন্তু দিদি, আমার কোনো কথায় মেয়েদের গৌরবের আমি काहनानिन जाघव कर्गव्र नि ।” “তুমি আবার করবে! হায় রে! মেয়েদের তুমি যে অন্ধ ভক্ত। তোমার মাখের স্তবগান শানে মনে-মনে হাসি। মেয়েরা নিলাজ হয়ে সব মেনে নেয়। তার উপরেও বকে ফলিয়ে সতীসাধনীগিরির বড়াই করে নিজের মুখে। সন্তায় প্রশংসা আত্মসাৎ করা ওদের অভ্যেস হয়ে গেছে ।” অধ্যাপক বললেন, “না দিদি, অবিচার কোরো না। অনেক কাল ওরা হীনতা সহ্য করেছে, হয়তো সেই জন্যেই নিজেদের শ্রেষ্ঠতা নিয়ে একটা বেশি জোর দিয়ে তক করে।” “না দাদা, ও তোমার বাজে কথা। আসল হচ্ছে এটা স্মীদেবতার দেশ– এখানে পরষেরা সৈন্ত্রণ, মেয়েরাও সৈন্ত্রণ। এখানে পরষেরা কেবলই মা মা’ করছে, আর মেয়েরা চিরশিশুদের আশ্বাস দিচ্ছে যে তারা মায়ের জাত। আমার তো লজ্জা করে। পশুপক্ষীদের মধ্যেও মায়ের জাত নেই কোথায়।" চিত্তচাঞ্চল্যে কাজের এত বাধা ঘটছে যে লজ্জা পাচ্ছি মনে-মনে। সদরে বাজেটের মিটিঙে রিসচ বিভাগে আরও কিছয় দান মঞ্জর করিয়ে নেবার প্রস্তাব ছিল। তার সমর্থক রিপোর্টখানা অধোঁকের বেশি লেখাই হয় নি। অথচ এ দিকে কোচের এসথেটিকস নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা শনে আসছি। অচিরা নিশ্চিত জানে বিষয়টা আমার উপলখি ও উপভোগের সম্পণে বাইরে। তা হলেও চলত, কিন্তু আমার বিশ্বাস ব্যাপারটাকে সে ইচ্ছে করে শোচনীয় করে তুলেছে। ঠিক এই সময়টাতেই সাঁওতালদের পাবগৈ । তারা পচাই মদ খাচ্ছে আর মাদল বাজিয়ে মেয়েপরে যে নত্য করছে। অচিরা ওদের পরম বন্ধ। মদের পয়সা জোগায়, সাল কিনে দেয় সাঁওতাল ছেলেদের কোমর বধিবার জন্যে, বাগান থেকে জবাফলের জোগান দেয় সাঁওতাল মেয়েদের চুলে পরবার। ওকে না হলে তাদের চলেই না। অচিরা অধ্যাপককে বলেছে, ও তো এ কদিন থাকতে পারবে না, অতএব এই সময়টাতে বিরলে আমাকে নিয়ে কোচের রসতত্ত্ব যদি পড়ে শোনান তা হলে আমার সময় আনন্দে কাটবে। একবার সসংকোচে বলেছিলাম, সাঁওতালদের উৎসব দেখতে আমার বিশেষ কৌতুহল আছে। বরং অধ্যাপক বললেন, না, সে আপনার ভালো লাগবে না। আমার ইনটেলেকচুয়ল মনোবাত্তির নিজ'লা একান্ততার পরে তাঁর এত বিশ্বাস। মধ্যাহ্নভোজনের পরেই অধ্যাপক গন গন করে পড়ে চলেছেন। দরে মাদলের আওয়াজ এক-একবার থামছে। পরক্ষণেই বিগণে জোরে বেজে উঠছে।