প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


మOB n গল্পগুচ্ছ চাপা গলায় বলতে চেষ্টা করলাম, “এখানে কাজ ছিল বিস্তর।” কিন্তু ফাঁকি দেব কী করে। আমার ব্যবহারে তো আমার কৈফিয়তের প্রমাণ হয় না । কঠিন হাসি হেসে দ্রতপদে চলে গেল অচিরা। আর চলবে না। একটা শেষ নিৎপত্তি করাই চাই। নইলে অপমানের অন্ত থাকবে না। সাঁওতালী পাবণ শেষ হয়েছে। সকালে বেড়াতে বেরিয়েছি। অচিরা সঙ্গে ছিল। উত্তরের দিকে একটা পাহাড় উঠেছে, আকাশের নীলের চেয়ে ঘন নীল। তার গায়ে গায়ে চারা শাল আর বন্ধ শাল গাছে বন অন্ধকার। মাঝখান দিয়ে কাঠারেদের পায়ে-চলার পথ। অধ্যাগক একটা অকিড ফলে বিশেষ করে পর্যবেক্ষণ করছেন, তাঁর পকেটে সবাদা থাকে আতস কাচ। গাছগুলোর মধ্যে অন্ধকার যেখানে ভ্রাকৃটিল হয়ে উঠেছে আর ঝিঝিপোকা ডাকছে তীব্র আওয়াজে, অচিরা বসল একটা শেওলাঢাকা পাথরের উপর। পাশে ছিল মোটা জাতের বাঁশগাছ, তারই ছাঁটা কঞ্চির উপর আমি বসলাম। আজ সকাল থেকে অচিরার মুখে বেশি কথা ছিল না। সেই জন্যেই তার সঙ্গে আমার কথা কওয়া বাধা পাচ্ছিল। সামনের দিকে তাকিয়ে এক সময় সে আস্তে আস্তে বলে উঠল, “সমস্ত বনটা মিলে প্রকাণ্ড একটা বহন-অঙ্গ-ওয়ালা প্রাণী। গড়ি মেরে বসে আছে শিকারি জন্তুর মতো। যেন পথলচর অক্টোপাশ, কালো চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার নিরন্তর হিপনটিজমে ক্লমে ক্ৰমে দিনে দিনে আমার মনের মধ্যে একটা ভয়ের বোঝা যেন নিরেট হয়ে উঠছে।” আমি বললাম, “কতকটা এই রকম কথাই এই সেদিন আমার ডায়ারিতে লিখেছি।” অচিরা বলে চলল, “মনটা যেন পরোনো ইমারত, সকল কাজের বার। নিষ্ঠর অরণ্য যেখানে পেয়েছে তার ফাটল, চালিয়ে দিয়েছে শিকড়, সমস্ত ভিতরটাকে টানছে ভাঙনের দিকে। এই বোবা কালা মহাকায় জন্তু মনের ফাটল আবিষ্কার করতে মজবত— আমার ভয় বেড়ে চলেছে। দাদ বলেছিলেন, লোকালয় থেকে একান্ত দরে থাকলে মানুষের মনঃপ্রকৃতি আসে অবশ হয়ে, প্রবল হয়ে ওঠে তার প্রাণপ্রকৃতি। আমি জিগগেস করলাম, এর প্রতিকার কী।’ তিনি বললেন, মানুষের মনের শক্তিকে আমরা সঙ্গে করে আনতে পারি, এই দেখো-না এনেছি তাকে আমার লাইব্রেরিতে।” দাদর উপযুক্ত এই উত্তর। কিন্তু আপনি কী বলেন।” আমি বললাম “আমাদের মন খোঁজে এমন একজন মানুষের সঙ্গ যে আমাদের সমস্ত অস্তিত্বকে সম্পণে জাগিয়ে রাখতে পারে, চেতনার বন্যা বইয়ে দেয় জনশন্যতার মধ্যে। এ তো লাইব্রেরির সাধ্য নয়।” অচিরা একট অবজ্ঞা করে বললে, “আপনি যার খোঁজ করছেন তেমন মানষে পাওয়া যায় বই-কি, যদি বন্ড দরকার পড়ে। তারা চৈতন্যকে উসকিয়ে তোলে নিজের দিকেই, বন্যা বইয়ে দিয়ে সাধনার বাঁধ ভেঙে ফেলে। এ সমস্তই কবিদের বানানো