প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করশ্যে ৯২৫ দই-একজন সঙ্গী নরেন্দ্রকে তাঁহার টিকি কাটিতে পরামর্শ দিয়াছিল, এ বিষয় লইয়া গম্ভীর ভাবে অনেক পরামর্শ ও অনেক ষড়যন্ত্র চলিয়াছিল, কিন্তু দেশে নরেন্দের তেমন দোদণ্ড প্রতাপ ছিল না বলিয়া পণ্ডিতমহাশয়ের টিকিট নিবিঘের ছিল । এই রাপে দেশে আদর ও বিদেশে আমোদ পাইয়া নরেন্দ্র বাড়িতে লাগিল । নরেন্দুের বাল্যকাল অতীত হইল । অন্যপ এখন অতিশয় বদ্ধ, চক্ষে দেখিতে পান না, শয্যা হইতে উঠিতে পারেন না, এক মহেতেও কর্ণাকে কাছ-ছাড়া করিতেন না। অনপের জীবনের দিন ফরাইয়া আসিয়াছে; তিনি নরেন্দুকে কলিকাতা হইতে ডাকাইয়া আনিয়াছেন, অন্তিম কালে নরেন্দ্র ও পন্ডিতমহাশয়কে ডাকাইয়া তাঁহাদের হস্তে কন্যাকে সমপণ করিয়া গেলেন। অনপের মৃত্যুর পর সাবভৌম মহাশয় নিজে পৌরোহিত্য করিয়া নরেন্দ্রের সহিত কর্ণার বিবাহ দিলেন। প্রথম পরিচ্ছেদ আমি যাহা মনে করিয়াছিলাম তাহাই হইয়াছে। নরেন্দ্র যে কিরপে লোক তাহা এত দিনে পাড়ার লোকেরা টের পাইল, আর হতভাগিনী কর্ণাকে যে কষ্ট পাইতে হইবে তাহা এত দিনে তাহারা বুঝিতে পারিল। কিন্তু পণ্ডিতমহাশয় দায়ের কোনোটাই বুঝিলেন না। কর্ণা আজকাল কিছ মনের কন্টে আছে। মনের উল্লাসে বিজন কাননে সে খেলা করিবে, বক্ষে করিয়া লইয়া পাখির সঙ্গে কত কী কথা কহিবে, কোলের উপর রাশি রাশি ফল রাখিয়া পা-দটি ছড়াইয়া আপন মনে গন গন করিয়া গান গাইতে গাইতে মালা গাঁথিবে, যাহাকে ভালোবাসে তাহার মুখের পানে চাহিয়া চাহিয়া অসফট আহাদে বিহবল ও অসফট ভাবে ভোর হইয়া যাইবে—সেই বালিকা বড়ো কষ্ট পাইয়াছে। তাহার মনের মতো কিছুই হয় না। অভাগিনী যে নরেন্দ্রকে এত ভালোবাসে— যাহাকে দেখিলে খেলা ভুলিয়া যায়, মালা ফেলিয়া দেয়, পাখি রাখিয়া দিয়া ছটিয়া আসে, সে কেন কর্ণাকে দেখিলে যেন বিরক্ত হয়। কর্ণা হাসিতে হাসিতে ছটিয়া গিয়া তাহাকে কী বলিতে আসে, সে কেন ক্রকুচিত করিয়া মাখ ভার করিয়া থাকে। কর্ণা তাহাকে কাছে বসিতে কত মিনতি করে, সে কেন কোনো ছল করিয়া চলিয়া যায়। নরেন্দ্র তাহার সহিত এমন নিজীবিভাবে এমন নীরসভাবে কথাবাতা কষ, সকল কথায় এমন বিরক্তভাবে উত্তর দেয়, সকল কাজে এমন প্রভূভাবে আদেশ করে যে, বালিকার খেলা ঘুরিয়া যায় ও মালা গাঁথা সাঙ্গ হয় ববি – বালিকার আর বুঝি পাখির সহিত গান গাওয়া হইয়া উঠে না! মলে কথাটা এই, নরেন্দ্র ও কর্ণায় কখনোই বনিতে পারে না। দইজনে দই বিভিন্ন উপাদানে নিমিত। নরেন্দ্র কর্ণার সেই ভালোবাসার কত কী অসংলগ্ন কথার মধ্যে কিছুই মিষ্টতা পাইত না, তাহার সেই প্রেমে-মাখানো অতৃপ্ত স্থির দটিমধ্যে ঢলঢল লাবণ্য দেখিতে পাইত না, তাহার সেই উচ্ছসিত নিঝরিণীর ন্যায অধীর সৌন্দয্যের মিন্টতা নরেন্দ্র কিছুই বুঝিত না। কিন্তু সরলা কর্ণা, সে অত কী বুঝিবে! সে ছেলেবেলা হইতেই নরেন্সের গণ ছাড়া দোষের কথা কিছুই শনে