প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


s ミや গল্পগুচ্ছ নাই। কিন্তু কর্ণার একি দায় হইল। তাহার কেমন কিছুতেই আশ মিটে না, সে আশ মিটাইয়া নরেন্দুকে দেখিতে পায় না, সে আশ মিটাইয়া মনের সকল কথা নরেন্দ্রকে বলিতে পারে না— সে সকল কথাই বলে অথচ মনে করে যেন কোনো কথাই বলা হইল না। একদিন নরেন্দ্রকে বেশ পরিবতন করিতে দেখিয়া কর্ণা জিজ্ঞাসা করিল, “কোথায় যাইতেছ।" নরেন্দ্র কহিলেন, "কলিকাতায়।” কর্ণা। কলিকাতায় কেন যাইবে। নরেন্দ্র ভ্ৰকুঞ্চিত করিয়া দেয়ালের দিকে মুখ ফিরাইয়া কহিল, "কাজ না থাকিলে কখনো যাইতাম না।” একটা বিড়ালশাবক ছটিয়া গেল। কর্ণা তাহাকে ধরিতে গেল, অনেকক্ষণ ছটাছটি করিয়া ধরিতে পারিল না। অবশেষে ঘরে ছটিয়া আসিয়া নরেন্দ্রের কাঁধে হাত রাখিয়া কহিল, "আজ যদি তোমাকে কলিকাতায় যাইতে না দিই?” নরেন্দ্র কাঁধ হইতে হাত ফেলিয়া দিয়া কহিল, "সরো, দেখো দেখি, আর একট হলেই ডিক্যানটারটি ভাঙিয়া ফেলিতে আর-কি।” কর্ণা। দেখো, তুমি কলিকাতায় যাইয়ো না। পণ্ডিতমহাশয় তোমাকে যাইতে দিতে নিষেধ করেন। নরেন্দ্র কিছুই উত্তর না দিয়া শিস দিতে দিতে চুল অাঁচড়াইতে লাগিলেন। কর্ণা ছটিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল ও এক শিশি এসেন্স আনিয়া নরেন্দ্রের চাদরে খানিকটা ঢালিয়া দিল । নরেন্দ্র কলিকাতায় চলিয়া গেলেন। কর্ণা দই একবার বারণ করিল, কিছু হাঁ হ: না দিয়া লক্ষেী ঠুংরি গাইতে গাইতে নরেন্দ্র প্রস্থান করিলেন। যতক্ষণ নরেন্দ্রকে দেখা যায় কর্ণা চাহিয়া রহিল। নরেন্দ্র চলিয়া গেলে পর সে বালিশে মুখ লুকাইয়া কাঁদিল। কিয়ৎক্ষণ কাঁদিয়া মনের বেগ শান্ত হইতেই চোখের জল মলছিয়া ফেলিয়া পাখিটি হাতে করিয়া লইয়া অন্তঃপুরের বাগানে মালা গাঁথিতে বসিল । বালিকা স্বভাবতঃ এমন প্রফুল্লহাদয় যে, বিষাদ অধিকক্ষণ তাহার মনে তিঠিতে পারে না। হাসির লাবণ্যে তাহার বিশাল নের দটি এমন মগ্ন যে রোদনের সময়ও অশ্রর রেখা ভেদ করিয়া হাসির কিরণ জনলিতে থাকে। যাহা হউক, কর্ণার চপল ব্যবহারে পাড়ার মেয়েমহলে বেহায়া বলিয়া তাহার বড়োই অখ্যাতি জলিময়াছিল— বড়োধাড়ি মেয়ের অতটা বাড়াবাড়ি তাহাদের ভালো লাগিত না। এ-সকল নিন্দার কথা কর্ণা বাড়ির পরাতন দাসী ভবির কাছে সব শানিতে পাইত। কিন্তু তাহাতে তাহার আইল গেল কী ? সে তেমনি ছাটাছটি করিত, সে ভবির গলা ধরিয়া তেমনি করিয়াই হাসিত, সে পাখির কাছে মুখ নাড়িয়া তেমনি করিয়াই গল্প করিত। কিন্তু এই প্রফুল্ল হাদয় একবার যদি বিষাদের আঘাতে ভাঙিয়া যায়, এই হাস্যময় অজ্ঞান শিশর মতো চিন্তাশনো সরল মুখশ্রী একবার যদি দুঃখের অন্ধকারে মলিন হইয়া যায়, তবে বোধ হয় বালিকা আহত লতাটির ন্যায় জন্মের মতো মিরমাণ ও অবসন্ন হইয়া পড়ে, বর্ষার সলিলসেকে—বসন্তের বায়বেীজনে আর বোধ হয় সে মাথা