প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করণো SRa তুলিতে পারে না। নরেন্দ্র অনপের যে অর্থ পাইয়াছিলেন, তাহাতে পল্লিগ্রামে বেশ সুখে স্বচ্ছদে থাকিতে পারিতেন। অনপের জীবদ্দশায় খেতের ধান, পর্কুেরের মাছ ও বাগানের শাকসবজি ফলমলে দৈনিক আহারব্যয় যৎসামান্য ছিল। ঘটা করিয়া দাগোৎসব সম্পন্ন হইত, নিয়মিত পজা-অৰ্চনা দানধ্যান ও আতিথ্যের ব্যয় ভিন্ন আর কোনো ব্যরই ছিল না। অনপের মৃত্যুর পর অতিথিশালাটি বাবচিখানা হইয়া দাঁড়াইল। ব্রাহ্মণগলার জবালায় গোটা চারেক দরোয়ান রাখিতে হইল, তাহারা প্রত্যেক ভট্টাচাবকে রীতিমত অধচন্দ্রের ব্যবস্থা করিত এবং প্রত্যেক ভট্টাচাৰ্য বিধিমতে নরেন্দ্রকে উচ্ছিন্ন যাইবার ব্যবস্থা করিয়া যাইত। নরেন্দ্র গ্রামে নিজ ব্যয়ে একটি ডিসপেনসরি স্থাপন করিলেন। শনিয়াছি নহিলে সেখানে ব্রান্ডি কিনিবার অন্য কোনো সুবিধা ছিল না। গবনমেন্টের সস্তা দোকান হইতে রায়বাহাদরের খেলানা কিনিবার জন্য ঘোড়দৌড়ের চাঁদা-পুস্তকে হাজার টাকা সই করিয়াছিলেন এবং এমন আরও অনেক সৎকাষ" করিয়াছিলেন যাহা লইয়া অমতবাজারের একজন পরপ্রেরক ভারি ধমধাম করিয়া এক পত্র লেখে। তাহার প্রতিবাদ ও তাহার পুনঃপ্রতিবাদের সময় অমলেক অপবাদ দেওয়া যে ভদ্রলোকের অকতব্য ইহা লইয়া অনেক তক বিতক হয় । নরেন্দ্রকে পল্লীর লোকেরা জাতিচু্যত করিল, কিন্তু নরেন্দ্র সে দিকে কটাক্ষপাতও করিলেন না। নরেন্দ্রের একজন সমাজসংস্কারক বন্ধ তাঁহার মিরাল করেজ’ লইয়া সভায় তুমলে আন্দোলন করিলেন। নরেন্দ্র বাগবাজারে এক বাড়ি ভাড়া করিয়াছেন ও কাশীপুরে এক বাগান কয় করিয়াছেন। একদিন বাগবাজারের বাড়িতে সকালে বসিয়া নরেন্দ্র চা খাইতেছেন। নরেন্দ্রের সকাল ও আমাদের সকালে অনেক তফাত, সেদিন শনিবারে কুঠি যাইবার সময় দেখিয়া আসিলাম, নরেন্দ্রের নাক ডাকিতেছে। দুইটার সময় ফিরিয়া আসিবার কালে দেখি চোখ রগড়াইতেছেন, তখনও আন্তরিক ইচ্ছা আর-এক ঘন্ম দেন । যাহাই হউক নরেন্দ্র চা খাইতেছেন এমন সময়ে সমাজসংস্কারক গদাধরবাব, কবিতাকুসমেমঞ্জরী-প্রণেতা কবিবর স্বরপেচন্দ্রবাব, আসিয়া উপস্থিত হইলেন। প্রথম অভ্যর্থনা সমাপ্ত হইলে সকলে চেয়ারে উপবিষ্ট হইলেন। নানাবিধ কথোপকথনের পর গদাধরবাব কহিলেন, "দেখনে মশায়, আমাদের দেশের স্ত্রীলোকদের দশা বড়ো শোচনীয়।” এই সময়ে নরেন্দ্র শোচনীয় শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করিলেন, স্বরপেচন্দ্রবাব কহিলেন— deplorable' । নরেন্দ্রের পক্ষে উভয় কথাই সমান ছিল, কিন্তু নরেন্দ্র এই প্রতিশব্দটি শনিয়া শোচনীয় শব্দের অর্থটা যেন জল বঝিয়া গেলেন। গদাধরবাব কহিলেন, "এখন আমাদিগের উচিত তাহাদের অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিয়া দেওয়া ।” অমনি নরেন্দ্র গম্ভীর ভাবে কহিলেন, “কিন্তু এটা কতদরে হতে পারে তাই দেখা যাক। তেমন সুবিধা পাইলে অন্তঃপুরের প্রাচীর অনেক সময় ভাঙিয়া ফেলিতে ইচ্ছা করে বটে, কিন্তু পলিসের লোকেরা তাহাতে বড়োই আপত্তি করিবে। ভাঙিয়া ফেলা দরে থাক একবার আমি অতঃপরের প্রাচীর লঙ্ঘন করিতে গিয়াছিলাম, ম্যাজিলেট তাতে আমার উপর বড়ো সন্তুষ্ট হয় নাই।” 也0