প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৮ গল্পগুচ্ছ অনেক তকের পর গদাধর ও বরপে মিলিয়া নরেন্দ্রকে বঝাইয়া দিল যে, সত্যসত্যই অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিয়া ফেলিবার প্রস্তাব হইতেছে না—তাহার তাৎপর্য এই যে, স্মীলোকদের অতঃপর হইতে মন্ত করিয়া দেওয়া। গদাধরবাব কহিলেন, “কত বিধবা একাদশীর যন্ত্রণায় রোদন করিতেছে, কত কুলীনপত্নী স্বামী জীবিত-সত্ত্বেও বৈধব্যজালা সহ্য করিতেছে।" * শবরপবাক কহিলেন, “এ বিষয়ে আমার অনেক কবিতা আছে, কাগজওয়ালারা তার বড়ো ভালো সমালোচনা করেছে। দেখো নরেন্দ্রবাব, শরৎকালের জ্যোৎসনারাত্রে কখনও ছাতে শায়েছ ? চাঁদ যখন ঢলঢল হাসি ঢালতে ঢালতে আকাশে ভেসে যায় তখন তাকে দেখেছ ? আবার সেই হাস্যময় চাঁদকে যখন ঘোর অন্ধকারে মেঘে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন মনের মধ্যে কেমন একটা কষ্ট উপস্থিত হয়, তা কি কখনো সহ্য করেছ। তা যদি করে থাকো তবে বলো দেখি সীলাকের কন্ট দেখলে সেইরাপ कषग्ने श्श कि ना ।” নরেন্দ্রের সম্মখে এতগুলি প্রশন একে একে খাড়া হইল, নরেন্দ্র ভাবিয়া আকুল। অনেক ক্ষণের পর কহিলেন, “আমার এ বিষয়ে কিছুমার সন্দেহ নাই।" গদাধরবাব কহিলেন, “এখন কথা হচ্ছে যে, সীলোকদের কষ্টমোচনে আমরা যদি দন্টান্ত না দেখাই তবে কে দেখাইবে। এসো, আজ থেকেই এ বিষয়ের চেষ্টা করা যাক।” নরেন্দ্রের তাহাতে কোনো আপত্তি ছিল না। তিনি মনে-মনে কেবল ভাবিতে লাগিলেন এখন কাহার অন্তঃপরের প্রাচীর ভাঙিতে হইবে। গদাধরবাব কহিলেন, “স্মরণ থাকতে পারে মোহিনী নামে এক বিধবার কথা সেদিন বলেছিলাম, আমাদের প্রথম পরীক্ষা তাহার উপর দিয়াই চলক। এ বিষয়ে যা-কিছয় বাধা আছে তা আলোচনা করে দেখা যাক। যেমন এক-একটা পোষা পাখি শঙ্খলমুক্ত হলেও স্বাধীনতা পেতে চায় না, তেমনি সেই বিধবাটিও স্বাধীনতার সহস্র উপায় থাকিতেও অন্তঃপরের কারাগার হইতে মন্ত হইতে চায় না। সতরাং আমাদের প্রথম কতব্য তাহাকে স্বাধীনতার সমিষ্ট আসবাদ জানাইয়া দেওয়া।" নরেন্দ্র কহিলেন সকল দিক ভাবিয়া দেখিলে এ বিষয়ে কাহারও কোনো প্রকার আপত্তি থাকিতে পারে না। সে বিধবার ভরণপোষণ বাসস্থান ইত্যাদি সমুদয় বন্দোবস্তের ভার নরেন্দ্র নিজস্কন্ধে লইতে স্বীকৃত হইলেন। ক্ৰমে ত্রিভঙ্গচন্দ্র বিশ্বম্ভর ও জন্মেজয়বাব আসিলেন, ক্ৰমে সন্ধ্যাও হইল, প্লেট আসিল, বোতল আসিল। গদাধরবাব সাঁশিক্ষা বিষয়ে অনেক বস্তৃতা দিয়া ও স্বরপবাব জ্যোৎস্নারান্ত্রির বিষয়ে নানাবিধ কবিতাময় উদাহরণ প্রয়োগ করিয়া শইয়া পড়িলেন, ত্রিভঙ্গচন্দ্র ও বিশ্ববঙ্গভরবাব খলিত বরে গান জড়িয়া দিলেন, নরেন্দ্র ও জন্মেজয় কাহাকে যে গালাগালি দিতে লাগিলেন বঝো গেল না।