প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কর্ণা SO4 কতারা জানিয়া গেল যে, নিধি কাজ কম করে, লেখাপড়াও জানে। তাহার পরদিনেই বিবাহ হইয়া গেল। নিধি ইহার মধ্যে একটি কথা চাপিয়া যায়, আমরা সেটি সন্ধান পাইয়াছি—পাড়ার একটি এনট্রেনস ক্লাসের ছাত্র তাহাকে বলিয়া দিয়াছিল যে, যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কোন কলেজে পড়, তবে বলিয়ো বিশপস কলেজে। দৈবক্রমে বিবাহসভায় ঐ প্রশন করায় নিধি গভীর ভাবে উত্তর দিয়াছিল বিষাক্ত কালেজে। ভাগ্যে কন্যাকতারা নিধির মখে তাকে রসিকতা মনে করে, তাই সে যাত্রায় সে মানে মানে রক্ষা পায় । নিধি আসিয়াই মহা গোলযোগ বাধাইয়া দিলেন। ‘ওরে ও— ‘ওরে তা”—এ ঘরে একবার, ও ঘরে একবার—এটা ওলটাইয়া, ওটা পালটাইয়া— দই-একটা বাসন ভাঙিয়া, দই-একটা পুথি ছিড়িয়া—পাড়া-সদ্ধ তোলপাড় করিয়া তুলিলেন। কোনো কাজই করিতেছেন না অথচ মহা গোল, মহা ব্যস্ত। চটিজতা চট চট করিয়া এ ঘর ও ঘর, এ বাড়ি ও বাড়ি, এ পাড়া ও পাড়া করিতেছেন—কোনোখানেই দাঁড়াইতেছেন না, উধনশবাসে ইহাকে দু-একটি উহাকে দই-একটি কথা বলিয়া আবার সট সট করিয়া গরমহাশয়ের বাড়ি প্রবেশ করিতেছেন। ফলটা এই সন্ধ্যার সময় গিয়া দেখিব— সাবভৌমমহাশয়ের বাড়ি যে-কে-সেই, তবে পাবে এক দিনে যাহা পরিস্কৃত হইত এখন এক সপ্তাহেও তাহা হইবে না। যাহা হউক, গহ পরিকার করিতে গিয়া একটি গরে্তর ব্যাপার ঘটিয়াছিল— ঝাঁটার আঘাতে, লোকজনের কোলাহলে, তিন-ঘর বোলতা বিদ্রোহী হইয়া উঠিল। নিধিরামের নাক মুখ ফলিয়া উঠিল— চটি জতা ফেলিয়া, টিকি উড়াইয়া, কোঁচার কাপড়ে পা জড়াইতে জড়াইতে, চৌকাটে হ:চুট খাইতে খাইতে, পণ্ডিতমহাশয়কে গালি দিতে দিতে গহ পরিত্যাগ করিলেন। এক সপ্তাহ ধরিয়া বাড়ির ঘরে ঘরে বিশৃঙ্খল বোলতার দল উড়িয়া বেড়াইত। বেচারি পণ্ডিতমহাশয় দশ দিন আর অরক্ষিত গহে বোলতার ভয়ে প্রবেশ করেন নাই, প্রতিবাসীর বাটীতে আশ্রয় লইয়াছিলেন। পরে গহে ফিরিয়া আসিলেন ও যাইবার সময় ঘটি ঘড়া ইত্যাদি যে-সকল দ্রব্য বাড়িতে দেখিয়া গিয়াছিলেন, আসিবার সময় তাহা আর দেখিতে পাইলেন না। আদ্য বিবাহ হইবে। পণ্ডিতমহাশয় কাল সমস্ত রাত স্বপ্ন দেখিয়াছেন। বহলকালের পরানো সেই ঝাঁটাগাছটি স্বপ্নে দেখিতে পাইয়াছিলেন, এটি তাঁহার শুভ লক্ষণ বলিয়া মনে হইল। হাসিতে হাসিতে প্রত্যুষেই শয্যা হইতে গারোখান করিয়াছেন। চেলীর জোড় পরিয়া চন্দনচচিত কলেবরে ভাবে ভোর হইয়া বসিয়া আছেন। থাকিয়া থাকিয়া সহসা পণ্ডিতমহাশয়ের মনে একটি দভাবনার উদয় হইল। তিনি ভাবিলেন, সকলই তো হইল, এখন নৌকায় উঠিবেন কী করিয়া। অনেক ক্ষণ ধরিয়া ভাবিতে লাগিলেন ; বিশ-বাইশ ছিলিম তাম্নকট ভস্ম হইলে ও দই-এক ডিবা নস্য ফরাইয়া গেলে পর একটা সদ্যপায় নিধারিত হইল। তিনি ঠিক করিলেন যে নিধিরামকে সঙ্গে লইবেন। তাঁহার বিশ্বাস ছিল নিধিরাম সঙ্গে থাকিলে নৌকা ডুবিবার কোনো সম্পভাবনাই নাই। নিধির অন্বেষণে চলিলেন। সেদিনকার দর্ঘটনার পরে নিধি আর পণ্ডিতমহাশয়ের বাড়িমাখা হইব না বলিয়া স্থির করিয়াছিল, অনেক খোশামোদে স্বীকৃত হইল। এইবার নৌকায় উঠিতে হইবে। সাবভৌমমহাশয় তীরে দাঁড়াইয়া নস্য লইতে লাগিলেন। আমাদের নিধিরামও নৌকাকে বড়ো কম ভয়