প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏరి ట్ర গল্পগুচ্ছ করিতেন না, যদি কন্যাকতাঁদের বাড়িতে আহারের প্রলোভন না থাকিত তাহা হইলে প্রাণাতেও নৌকায় উঠিতেন না। অনেক কন্টে পাঁচ-ছয়-জন মাঝিতে ধরাধরি করিয়া তাহাদিগকে কোনোক্ৰমে তো নৌকায় তুলিল। নৌকা ছাড়িয়া দিল। নৌকা যতই নড়েচড়ে পণ্ডিতমহাশয় ততই ছটফট করেন, পণ্ডিতমহাশয় যতই ছটফট করেন নৌকা ততই টলমল করে ; মহা হাঙ্গাম, মাঝিরা বিরত, পণ্ডিতমহাশয় চীৎকার করিতে আরম্ভ করিলেন ও মাঝিদিগকে বিশেষ করিয়া অনুরোধ করিলেন যে, যদিই পাড়ি দিতে হইল তবে যেন ধার-ধার দিয়া দেওয়া হয়। নিধিরামের মখে কথাটি নাই। তিনি এমন অবস্থায় আছেন যে, একটা বাতাস উঠিলে বা একটা মেঘ দেখা দিলেই নৌকার মাসতুলটা লইয়া জলে ঝাঁপাইয়া পড়িবেন। পণ্ডিতমহাশয় আকুল ভাবে নিধির মুখের দিকে চাহিয়া আছেন। দই-এক জায়গায় তরঙ্গবেগে নৌকা একটন টলমল করিল, নিধি লাফাইয়া উঠিল, পণ্ডিতমহাশয় নিধিকে জড়াইয়া ধরিলেন। তখনও তাঁহার বিশ্বাস ছিল নিধিকে আশ্রয় করিয়া থাকিলে প্রাণহানির কোনো সম্ভাবনা নাই। নিধি সাবভৌমমহাশয়ের বাহপাশ ছাড়াইবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে লাগিলেন, পণ্ডিতমহাশয় ততই প্রাণপণে আটিয়া ধরিতে লাগিলেন। শীর্ণকায় নিধি দারণ নিপেষণে রন্ধশ্বাস হইয়া যায় আর-কি, রোষে বিরক্তিতে যন্ত্রণায় চীৎকার করিতে লাগিল। এইরুপ গোলযোগ করিতে করিতে নৌকা তীরে লাগিল । মাঝিরা এরপে নৌকাযারা আর কখনও দেখে নাই। তাহারা হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিল, কণঠাগতপ্রাণ নিধি নিশ্বাস লইয়া বাঁচিলেন, পন্ডিতমহাশয় এক ঘটি জল খাইয় বাঁচিলেন। বিবাহের সন্ধ্যা উপস্থিত। পণ্ডিতমহাশয় টিকিসত্তে শিরে টোপর পরিয়া গদির উপর বসিয়া আছেন। অনাহারে, নৌকার পরিশ্রমে ও অভ্যাসদোষে দারণে ঢালিতেছেন। মাথার উপর হইতে মাঝে মাঝে টোপর খসিয়া পড়িতেছে। পাশ্ববতীর্ণ নিধি মাঝে মাঝে এক-একটি গ:তা মারিতেছে ; সে এমন গীতা যে তাহাতে মত ব্যক্তিরও চৈতন্য হয়, সেই গতা খাইয়া পণ্ডিতমহাশয় আবার ধড়ফড়িয়া উঠিতেছেন ও শিরচু্যত টোপরটি মাথায় পরিয়া মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে চারি দিক অবলোকন করিতেছেন, সভাময় চোখ-টেপাটেপি করিয়া হাসি চলিতেছে। লগন উপস্থিত হইল, বিবাহের অনুষ্ঠান আরম্ভ হইল। পণ্ডিতমহাশয় দেখিলেন, পরোহিতটি তাঁহারই টোলআউট শিষ্য। শিষ্য মহা লজায় পড়িয়া গেল। পণ্ডিতমহাশয় কানে কানে কহিলেন, তাহাতে আর লজা কী! এবং লক্ষজা করিবার যে কোনো প্রয়োজন নাই এ কথা তিনি স্কন্দ ও কলিকপরাণ হইতে উদাহরণ প্রয়োগ করিয়া প্রমাণ করিলেন। সাবভৌমমহাশয় বিবাহ-আসনে উপবিট হইলেন। পরোহিত মন্ত্র বলিবার সময় একটা ভুল করিল। সংস্কৃতে ভুল পণ্ডিতমহাশয়ের সহ্য হইল না, অমনি মগধবোধ ও পাণিনি হইতে গণ্ডা আটেক সত্র আওড়াইয়া ও তাহা ব্যাখ্যা করিয়া পরোহিতের ভ্রম সংশোধন করিয়া দিলেন। পরোহিত অপ্রস্তুত হইয়া ও ভেবাচেকা খাইয়া আরও কতকগুলি ভুল করিল। পণ্ডিতমহাশয় দেখিলেন যে, তিনি টোলে তাহাকে যাহা শিখাইয়াছিলেন পরোহিত বাবাজি চাল-কলার সহিত তাহা নিঃশেষে হজম করিয়াছেন। বিবাহ হইয়া গেল। উঠিবার সময় সাবভৌমমহাশয় কিরাপ বেগতিকে পায়ে পা জড়াইয়া তাঁহার বশরের ঘাড়ে পড়িয়া গেলেন, উভয়ে বিবাহসভায় ভূমিসাং হইলেন